লাখ টাকা বিনিয়োগে দিনে লাভ ১৩০০ টাকা!

তারা তিন বন্ধু। গাজী মহিউদ্দীন, আনিছুর রহমান ও হারুনুর রশীদ। এর মধ্যে গাজী মহিউদ্দীন ও আনিছুর রহমানের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়। আর হারুনুর রশীদের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জে। বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে পরিচয়। করোনার কারণে পণ্য বিক্রির ব্যবসায় ধস নামে। এরপর তিন জনে মিলে শুরু করেন এমএলএম ব্যবসার নামে প্রতারণা। খুব দ্রুততার সঙ্গে তারা সফল হন। ১ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০ টাকা লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ হাজার ৪২৭ জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন ৬ কোটি টাকা। কিন্তু বিধি বাম, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি পুলিশ সোমবার তাদের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় একটি কম্পিউটার, নগদ ৪৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে জমা ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৯৪ টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা প্রতারণায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার। এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় গতকাল মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার রিমান্ড শুনানি হবে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, তিন জনকে দেখলে মনে হবে না তারা প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত। চালচলন, পোশাক-আশাক, কথাবার্তায় আধুনিকতার ছাপ। অথচ বছরখানেক আগেও তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সোপান প্রডাক্ট লিমিটেড (এসপিএল) ও সোপান  প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণা করেছিলেন। সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে চক্রটি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে অফিস নিয়ে এ কাজ করতেন। যেন সাধারণ মানুষ তাদের কাছে বিনিয়োগ করতে কোনো সংকচবোধ না করে।

গত আট মাসে মূলধনসহ শতকরা ২৫০ টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য সংগ্রহ করে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল প্রতারক চক্রটি। তারা সরকারি চাকরিজীবী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে সদস্য করতেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার আরো বলেন, .িংঢ়ষ৬৩০.পড়স নামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকের লগইন স্লট খুলে সদস্যদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন প্যাকেজে লভ্যাংশ দিত। চক্রটি আড়াই হাজার টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ৩০ টাকা লভ্যাংশ দিত। ৭ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগে ১০০ টাকা, ২২ হাজার ৫০০ টাকায় ৩০০ টাকা, ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগে ৯০০ টাকা লভ্যাংশ দিত। ১ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০ টাকা লভ্যাংশ দিত।

রেজাউল হায়দার বলেন, একজন সদস্য বিনিয়োগের জন্য তিন জনকে নিয়ে এলে তাকে শতকরা ১০ টাকা বোনাসসহ ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভ দিত। এভাবে তিন মাসে ১ হাজার ৪২৭ জনের কাছ থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।