রাণীশংকৈলে নেকমরদ হাটে মেলার নামে অতিরিক্ত টোল আদায়

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সব চেয়ে বড় হাট নেকমরদ হাটে মেলার নামে চলছে অতিরিক্ত টোল আদায়।বিশেষ করে গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সরেজমিনে গিয়ে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

সরকারি টোল আদায়ের হার অনুযায়ি, হাটে গরু প্রতি ২৩০ টাকা, ছাগল প্রতি ৯০ টাকা ও বাই-সাইকেল প্রতি ৬০ টাকা টোল নেওয়ার  নিয়ম থাকলেও বর্তমানে তা না মেনে নেকমরদ মেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের নির্দেশে গরু প্রতি ৩৬০ টাকা, ছাগল প্রতি ১৫০ টাকা ও সাইকেল প্রতি ২০০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। 

হাটে পশ্চিম বনগাঁও থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী রফিকুল  ও বড় পলাশবাড়ি গ্রামের মর্তুজা আলি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে হাট কমিটির লোকজন এভাবে আমাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়ায় আমরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। হাটে আসা আরো অনেক ক্রেতা ও বিক্রেতা একই অভিযোগ করেন। 

গরুর রশিদ লেখক ইয়াসিন আলি ও ছাগলের রশিদ লেখক আব্দুল আজিজ বলেন, নেকমরদ ওরশ মেলার কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক ও সম্পাদক আব্দুল হালিমের  নির্দেশে আমরা এ অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছি।
 
ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, আমরা মেলা কমিটির নামে ডিসি স্যারের মৌখিক অনুমতিতে পাঁচটি হাট নিয়েছি। সরকারি খাস আদায় হিসাবে প্রতি হাটে সংশ্লিষ্ট তহসিলদার অফিসে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে জমা দিচ্ছি। এই সাথে মূল ইজারাদারকে হাট প্রতি ৬০ হাজার টাকা করে মোট ৩ (তিন) লাখ টাকা দেওয়া হবে। তবে, এ ব্যাপারে হাটের মূল ইজারাদার রাজিব হোসেন বলেন, আমি এখন পর্যন্ত হাটের ইজারার কোনো টাকা পাইনি। 

ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, নেকমরদ হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পেয়ে আমি হাটে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি।আদায়কারীরা অতিরিক্ত টোল আদায়ের কথা স্বীকার করে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং আগামী হাট থেকে আর কোনো অতিরিক্ত টাকা না নেওয়ার কথা দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/কেকে