ইত্তেফাক রিপোর্ট
লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন নিয়মে আইপিওর (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) শেয়ার বণ্টনের খবরে ভাটা পড়েছে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব খোলায়। গত বছরের নভেম্বর মাসে পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ বিনিয়োগকারী। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে তা নেমে এসেছে ৪৪ হাজারে। আইপিওর শেয়ার পেতে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ থাকতে হবে—এমন শর্তের কারণে লাখ লাখ বিও বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আনুপাতিক হারে আইপিও বণ্টনের সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী। এতে সব বিনিয়োগকারী উপকৃত হবেন। যে বিওগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, তা অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট। লটারিতে আইপিও পেতে অনেক সুযোগসন্ধানী বিও খুলে থাকেন। তাদের জন্য যারা প্রকৃত বিনিয়োগকারী, তারা আইপিওর শেয়ার পান না। বিও অ্যাকাউন্টের উল্লেখযোগ্য সংখ্যা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। শুধু আইপিওতে আবেদনের জন্য খোলা হয়।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্যানুযায়ী, বিদায়ি বছরের ডিসেম্বর শেষে পুঁজিবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৫২ হাজার ১৬৮টি। নভেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৮ হাজার ৮৯২টি। অর্থাত্ এই সময়ের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট বেড়েছে প্রায় ৪৪ হাজার। এর মধ্যে একক অ্যাকাউন্ট রয়েছে ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৩২৫টি। এছাড়া ৯ লাখ ৮ হাজার ৯৩৮টি যৌথ এবং কোম্পানির বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে ১৩ হাজার ৮৩৫টি।
এর আগে গত নভেম্বরে মাত্র ১৫ কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে নতুন বিও হিসাব খোলা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৮টি। সেসময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুঠোফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা আইপিওতে আসার সংবাদে বিও খোলার হিড়িক পড়ে যায়।
সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে লটারি প্রথা উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী এপ্রিল থেকে নতুন পদ্ধতিতে আইপিও বাজারে আসবে। সে অনুযায়ী বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করলে আনুপাতিক হারে সবাই শেয়ার পাবেন। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে ন্যূনতম বাজার মূল্যে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে। এমন বিধান রেখে আইপিওর সংশোধনী চূড়ান্ত করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বা এর গুণীতক হারে আবেদন করতে হবে। এছাড়া কমিশন বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং ও প্রসপেক্টাস প্রকাশের জন্য বিদ্যমান দুই দফায় সম্মতিপত্র দেওয়ার পরিবর্তে উভয়ের জন্য একসঙ্গে সম্মতিপত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের এসব সিদ্ধান্ত আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা অনেকেই বলছেন, এমন শর্ত দেওয়ার ফলে যারা সামান্য পুঁজি নিয়ে আইপিওতে আবেদনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে যাচ্ছেন তারা নিরুত্সাহিত হবেন।