‘কঠিন’ কন্ডিশনে সফল মিঠুন

খুব বাক-পটু নন, অনুভূতি প্রকাশে বেশ সলজ্জ। নিজের ভেতরে গুটিয়ে থাকেন বললে ভুল হবে না। চুপচাপ স্বভাবের মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের হাস্য-রস গোপন খবর নয়। তাকে দলে রেখে নির্বাচক, কোচ, অধিনায়ককে প্রতিনিয়ত শুনতে হয় অনেক সমালোচনা। অবশ্য সেসবে মিঠুনের চোখ পড়ে কমই। কারণ অন্তর্জাল দুনিয়ায় খুবই অনিয়মিত তিনি।

এমনকি দলে থাকলেও ম্যাচের একাদশে নিয়মিত নন মিঠুন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হোম সিরিজে তিন ম্যাচেই একাদশে জায়গা পাননি। গত সাত বছরে ওয়ানডে খেলেছেন ৩০টি। যেখানে হাফ সেঞ্চুরি ছয়টি। সুযোগ কম পেলেও বিভিন্ন সময়ই ত্রাতার ভূমিকায় ধরা দিয়েছেন এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

ম্যাচের আগের দিন মিঠুন বলেছিলেন, ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে। গতকাল নিজের কথার মান রেখেছেন তিনি। তামিম ৭৮ রান করলেও ক্রাইস্টচার্চে তার ক্যারিয়ার সেরা ৫৭ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের (৬ চার, ২ ছয়) ইনিংসেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

এমন ইনিংসের পরও ম্যাচ শেষে পরাজিত দলের প্রতিনিধি মিঠুন। তবে বিরুদ্ধ কন্ডিশনে রান পাওয়ায় খুশি ৩০ বছর বয়সি এ ব্যাটসম্যান। গতকাল ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমি যেভাবে ব্যাট করেছি সেটা নিয়ে খুশি। আমার মনে হয় এটি আমার দলকে সাহায্য করেছি।’

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেখানে নিউজিল্যান্ডে সংগ্রাম করেন বাউন্স, গতির সামনে। সেখানে অবিশ্বাস্য রকম সফল মিঠুন। এখানে ৪ ম্যাচ খেলে তিনটি হাফ সেঞ্চুরি আছে তার। ২০১৯ সালে নেপিয়ারে ৬২, ক্রাইস্টচার্চে ৫৭ রান করেছিলেন।

গতকাল তামিম আউট হওয়ার পর উইকেটে এসেছিলেন মিঠুন। মুশফিকের সঙ্গে ৫১, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়েছেন। ব্যাটিংয়ের সময় নিজের পরিকল্পনা নিয়ে মিঠুন বলেছেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি বল টু বল। আমরা সবাই জানি নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন আমাদের জন্য কঠিন। সুতরাং বেশি ধীরে খেললে রান করা কঠিন। আমি তাই বল দেখে খেলেছি এবং ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছি।’ মূলত উইকেটকিপার হলেও গতকাল ২ ওভার অফস্পিনও করেছেন মিঠুন। এবার হয়তো সমর্থকদের কাছে ‘টিমম্যানের’ স্বীকৃতি পেতেই পারেন তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি