ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লি.-এর চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের দেশত্যাগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিষেধাজ্ঞায় অনুমোদন দিয়েছে আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েস এ অনুমোদন দেন।
অর্থ পাচার ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির ঐ দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসের ৯ তারিখে দুদক তাদের দুজনের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি চিঠি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠায়। একই সঙ্গে আদালতের অনুমতি নিতে ঐ দিনই দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়।
দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, দুদক যখন জানল, তারা বিদেশ চলে যেতে পারেন, তখন দুদক ব্যবস্থা নেয়। তখন এখতিয়ার সম্পন্ন কোর্ট খোলা ছিল না। বৃহস্পতিবার এখতিয়ার সম্পন্ন কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞার অনুমতি এসেছে।
এ ব্যাপারে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বলেন, ইভ্যালি গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসাবে ৩৩৯ কোটি নিয়েছে। যার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না, এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান টিম তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুসন্ধান টিম বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডি গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১৪ মার্চ ইভ্যালির চলতি সম্পদ পাওয়া যায় প্রায় ৬৫ দশমিক ১৮ কোটি টাকা এবং সংস্থাটির মোট দায় প্রায় ৪০৭ দশমিক ১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে প্রায় ২১৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসাবে নিয়েছে ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৩৯ কোটি টাকার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঐ অর্থ আত্মসাত্ অথবা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।