ছোট্ট শিশু আমিরা নুসরাত। ভর্তি হয়েছেন ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজে। স্কুলের প্রথম শ্রেণি সে ভর্তি হতে পারলেও পারেনি তার যমজ বোন আরিশা নুশরাত। মন খারাপ দুজনেরই। শুধু আমিরাই নয়, মাহজীবন হাসান ভর্তি হতে পারলেও পারেনি তার যমজ বোন মুসারাত হাসান। কিন্তু হাইকোর্টের এক আদেশে এখন ১৯ জন যমজ শিশু তাদের বোনদের সঙ্গে ভিকারুননিসা নুন স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন। উচ্চ আদালতের এরকম মানবিক আদেশে খুশির বন্যা বইছে কোমলমতি এসব শিশু ও তাদের অভিভাবকদের মাঝে। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার যমজ শিশুদের ভর্তি নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
আদালত বলেন, যমজ এসব শিশুদের সুষ্ঠু শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষে তাদের একসঙ্গে একই স্কুলে অধ্যয়ন জরুরি। শিশুদের এই মানবিক দিকটি কোনভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নাই।
ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেন ১৯ জোড়া অর্থাৎ ৩৮ জন যমজ শিশু। এর মধ্যে প্রতি যমজ শিশুর বিপরীতে একজন করে লটারিতে উত্তীর্ণ হন। বাদ পড়ে একজন করে। শিশুরা যমজ বিধায় অনুত্তীর্ণদেরও ঐ স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়ার জন্য অভিভাবকরা আবেদন করেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনে সাড়া দেননি। পরে অভিভাবকরা আবেদন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে। কিন্তু সেখান থেকেও কোন আশার বাণী আসেনি। এরপর ১৯ যমজ শিশুর অভিভাবকরা ভর্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটে বলা হয়, ১৯ জোড়া যমজ শিশুর বোনদের মধ্যে একজন লটারিতে মনোনীত হলেও অপরজন মনোনীত না হওয়ায় ভর্তির সুযোগ পাননি। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছরে যমজদের একজন লটারিতে মনোনীত হলেও যমজ দুজনকেই ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবছর ভর্তির সুযোগ না পেয়ে শিশুরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। মনোনীত না হওয়া শিশুদের ভর্তির বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত দরকার।
আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট লটারিতে মনোনীত না হওয়া ১৯ যমজ শিশুর ভর্তি নিতে ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেয়। এছাড়া ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ১৯ যমজ শিশুর ভর্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘নিষ্ক্রিয়তা’কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
আদেশের পর তাসমিয়া প্রধান ইত্তেফাককে বলেন, যমজ শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য একসঙ্গে থাকাটা খুবই জরুরি। তাদের চাওয়া পাওয়া প্রায় একইরকম। আমার নিজেরও যমজ বাচ্চা আছে। আমি দেখেছি, তাদেরকে যদি আলাদা কিছু দেওয়া হয় বা আলাদা পরিবেশে রাখা হয়, তারা এক ধরণের মানসিক সমস্যায় ভোগে। নেতিবাচক প্রভাব পরে তাদের ওপর।
আরিশা ও আমিরার বাবা আব্দুল্লাহ আল হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, আমার যমজ কন্যারা একই বৃন্তে দুটি ফুল। ওরা সবসময় একই সঙ্গে থাকুক একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করুক সেটাই চাই। আশা করি স্কুল কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী শিশুদের দ্রুত ভর্তি করে নেবে। এদিকে আরিশাও অনেক খুশি। বাবা-মায়ের কাছে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি শুনতে পেরে সেও আনন্দে আত্মহারা।
ইত্তেফাক/এসআই