আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী ১৫ জন

কলারোয়ায় ইউপি নির্বাচন কাল

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

কলারোয়ায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা। তবে ভোটের সময় যতই এগিয়ে আসছে, জনমনে উদ্বেগ ততই বাড়ছে। বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে প্রার্থী না দিলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না। কারণ, বেশির ভাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগেরই লোকজন। এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকার জন্য দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জানা গেছে, উপজেলার ১০ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১৫ জন।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, কলারোয়া উপজেলার ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৩৮ জন। সাধারণ ওয়ার্ডে মেম্বার পদে ৩৮৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদে ১২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ সময়ে প্রার্থীরা এখন পথসভা, গণসংযোগ, মতবিনিময়সহ ভোটারদের দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকার বিপক্ষে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী লড়াই করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের সতর্কবার্তা এবং সর্বশেষ বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করা হলেও খুব বেশি কাজে আসেনি। বরং অনেক স্থানে বিদ্রোহীদের চাপে প্রচার-প্রচারণায় গতি আনতে পারছেন না সরকারি দলের প্রার্থীরা। সম্প্রতি উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নৌকার প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া আরো কয়েকটি স্থানে নৌকা প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হামলা-পালটা হামলার খবর পাওয়া গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বি এম নজরুল ইসলাম বলেন, দলের ভেতর গ্রুপিং থাকলে পরিণামে দলকেই খেসারত দিতে হয়। নির্বাচনকে ঘিরে বিভক্তিটা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ কারণে নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনে তার স্পষ্ট প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবির বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কলারোয়ায় ১০ ইউনিয়নের একটিতে ইভিএম ও ৯টিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। পাঁচ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।