সাঁতারের মতো ভালো ব্যায়াম খুব কমই আছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাথা থেকে পায়ের আঙুল—সাঁতার গোটা শরীরের ব্যায়াম করিয়ে নেয়। এমনকি শুধু পানিতে ভেসে থাকাও শরীরের জন্য ভালো। সাঁতার কাটলে হূিপণ্ড এবং ফুসফুস সুস্থ থাকে। যাঁরা রোজ সাঁতার কাটেন, তাঁদের হার্টের সমস্যাও কমে অনেকখানি। অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করতে চাইলে সাঁতারের বিকল্প নেই।
আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কিংবা হাঁটু, পায়ের ব্যথা থাকলেও সাঁতার কাটা যায়। অনেক সময় এই ধরনের রোগে ব্যায়াম করতে সমস্যা হলেও সাঁতারে সাধারণত তা হয় না। অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের মতো রোগে অস্থিসন্ধির যন্ত্রণা, আড়ষ্ট ভাব কমাতে সাহায্য করে সাঁতার। হতাশা দূর করতে সাঁতার খুবই কার্যকর। ডিমেনশিয়া জাতীয় নানা মানসিক সমস্যায় মস্তিষ্ক ও মন ভালো রাখার অন্যতম উপায় হিসেবে সাঁতারকে বেছে নিতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বার্ধক্যজনিত অনিদ্রাও দূর করে সাঁতার। ইনসমনিয়ার মতো সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাঁরা নিয়মিত সাঁতার কাটলে ভালো থাকবেন। ঘুমও হবে ভালো।
আজকের দিনে মেদ বহুলতা বা ওবেসিটির সমস্যা দুনিয়াজুড়ে যখন এক সংকটে পরিণত হয়েছে, তখন সাঁতারের চেয়ে ভালো ব্যায়াম সত্যিই আর কিছু হয় না। মেদ ঝরাতে সাঁতারের পরামর্শ দেওয়া হয়। বেশ কিছু শ্বাসজনিত সমস্যাতেও সাঁতার কাটতে বলেন চিকিত্সকরা। সাঁতার কাটার গুণ বলে শেষ করা যাবে না। সাঁতার শরীরের বিভিন্ন পেশিকে নমনীয় রাখে। সাঁতারে শরীরের ভালো হরমোন ক্ষরণ হয়ে স্ট্রেস দূর হয়। মন চাঙ্গা থাকে।
সাঁতার এক ধরনের জলক্রীড়া প্রতিযোগিতাবিশেষ, যাতে প্রতিযোগীরা নির্দিষ্ট দূরত্বে দ্রুত অতিক্রমণের জন্য সচেষ্ট থাকেন। ১৮৯৬ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় সাঁতারের সর্বপ্রথম অন্তর্ভুক্তি ঘটে। বর্তমানে অলিম্পিকে ১০০ মিটার থেকে শুরু করে ১৫০০ মিটার দূরত্বের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া হিসেবে পরিচিত। সাঁতারবিষয়ক প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে ডাইভিং, সিনক্রোনাইজড সাঁতার এবং ওয়াটার পোলো।
নিয়মিত সাঁতারে বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। সপ্তাহে অন্তত চার দিন এক ঘণ্টা করে সাঁতরালে এক মাসেই শরীরের পরিবর্তন বোঝা যায়। সাঁতার অনেক প্রকার। এর মধ্যে বাটারফ্লাই, ব্যাকস্ট্রোক, ব্রেস্টস্ট্রোক ও ফ্রিহ্যান্ড উল্লেখযোগ্য। ভিন্ন ধরনের সাঁতার শিখে নিলে শরীরের গঠন যেমন সুন্দর হয়, মেদ ঝরার মাত্রাটাও দ্রুত হয়ে যায়। তবে সাঁতার শুরু করার আগে প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। হালকা দৌড় কিংবা দাঁড়িয়ে ফ্রিহ্যান্ড ব্যায়াম করে নিলে পানিতে পেশি টান পড়ার আশঙ্কা কমে। পেশির জড়তা না সরিয়ে সাঁতারে নামলে কাঁধে কিংবা পায়ে টান পড়তে পারে। সাঁতার কাটার সময় চোখে পানির ঝাপটা এড়াতে পরা য়ায় সুইমিং গগলস। চুলের সুরক্ষার জন্য সুইমিং ক্যাপ। যদি কানে পানি যাওয়ার শঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে কানে ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাঁতার শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সাঁতারে ঊর্ধ্বাঙ্গ ও নিম্নাঙ্গের সমন্বয় ঘটে বলে অল্প সময়ে পুরো শরীরেরই ব্যায়াম হয়ে যায়।
সাঈমা আক্তার