কিশোর উপন্যাস

দুরন্ত দুখু

॥ সতেরো ॥

নিঃসন্তান দম্পতির স্নেহে রাঙা দুখুর তিন মাস

 

গৃহভৃত্যের ভেতর লুকিয়ে থাকা বারুদের ঝাঁজ বেরোতে লাগল ক্রমশ। কাজী রফিজউল্লাহ্ খোঁজখবর নিয়ে এই বালকের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিয়েছেন। গৃহভৃত্য হলেও তাকে সে-চোখে দেখতেন না তিনি; তাঁর স্ত্রী শামসুন্নেসা খানমও। গৃহের কাজের ফাঁকে গুনগুন করে আপনমনে গান গাইত দুখু। তার এ আত্মভোলা সংগীতপ্রেম ছুঁয়ে গেল শামসুন্নেসাকেও।

একদিন নিজের রুমে ফ্লোরে শুয়ে বুকের তলে বালিশ দিয়ে খাতা-কলম নিয়ে উপুড় হয়ে দুখু কী যেন লিখছে, আর গুনগুনিয়ে গান গাচ্ছে। দৃশ্যটা দরজার বাইরে থেকে দেখে ফেললেন তিনি। দুখুকে বুঝতে না দিয়ে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ শুনলেন আপনভোলার আত্মগীতি।

একসময় ভেতরে ঢুকে প্রশ্ন করলেন, ‘কী করছ, দুখু?’

শোয়া থেকে একলাফে উঠে দাঁড়িয়ে সে বলল, ‘কিছু না, কিছু না।’

‘মিথ্যা বলছ কেন? কিছু না বলছ কেন? কিছু তো করছ, গানও গাচ্ছ!’

‘ওঃ! ওটা কিছু না, তেমন কিছু না।’

‘তেমন কিছু না মানেও কিছু। দেখাও আমাকে।’

খাতাটা দিতে চাইছিল না দুখু। কাছে গিয়ে হাত বাড়ালেন তিনি। এবার আর বাধা দিতে পারল না দুখু। খাতাটা হাতে নিয়ে পড়ে ফেললেন গৃহকর্ত্রী। পড়ামাত্রই নির্বাক হয়ে গেলেন। কোনো প্রশ্ন না করে বেরিয়ে গেলেন এঘর থেকে। নিজের ঘরে এসে চুপ করে বসে রইলেন। ঘর থেকে আর বেরোলেন না তিনি।

আশ্রয়দাত্রীর এ প্রতিক্রিয়ার অর্থ জানা নেই। কী অপরাধ করল, এত কেন মলিন আর বিমর্ষ হয়ে গেলেন তিনি! না-বুঝে দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক চক্কর খেতে লাগল দুখু। ভেতরের রুমে কখনো ঢোকে না, ঢুকতে হয় না তাকে। তবে বাইরে থেকে, দরজা খোলা থাকার কারণে, এখন দেখা যাচ্ছে ভেতরটা। ভেতরে অমাবস্যার ঘনঘটা আর নিম্নচাপ দেখে আসন্ন ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হওয়ার আশঙ্কায় সংগ্রহ করা খাতা-কলম সে লুকিয়ে ফেলল চৌকির কোণে, বালিশের কাভারের ভেতরে।

 

রাতে দারোগা সাহেব ফিরে এসে বেডরুমে ঢুকে স্ত্রীর মুখ দেখে থমকে গেলেন।

কিছুটা সময় পেরিয়ে এটা-ওটা কথাবার্তার পর প্রশ্ন করলেন, ‘কোনো ঝামেলা হয়েছে, এত বিমর্ষ লাগছে কেন তোমাকে?’

‘বিমর্ষ না, উদ্বিগ্ন, কোনটা মনে হচ্ছে আমাকে দেখে?’

স্ত্রীর কথার গিঁট খুলতে পারলেন না তিনি। দুটোকে আলাদা করতে না পেরে বললেন, ‘একটা কিছু ঘটেছে কি? দুর্ব্যবহার করেছে ওই বখাটেটা?’

‘কী বাজে বকছ? ও কি খারাপ আচরণ করার মতো ছেলে? এটাই মনে হলো তোমার?’

‘না, তা মনে হয়নি। ওর গান, কবিতা, মেধা আর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে আমি তো মুগ্ধ!’

‘তাহলে এত খারাপ চিন্তা মাথায় উদয় হলো কেন তোমার?’

‘তোমার প্রতিক্রিয়া দেখে হঠাৎ এমন ভাবনা এসেছে। সরি।’

‘শোনো। ওর গলার গান শুনে আমি ভীষণ মুগ্ধ হয়েছি। দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে শুনে ভেতরে গিয়ে দেখেছি গাইতে গাইতে কী চমৎকার গান বাঁধছে সে। তার এ গুণ দেখে মনে হয়েছে ক্ষুরধার এ মেধাবী ছেলেটির জন্য একটা কিছু করা উচিত আমাদের।’

‘কী করতে চাও?’

‘ওকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দাও। পড়াশোনা করলে ও জীবনের বদ্ধদ্বার খুলে এগিয়ে যেতে পারবে। ওর মুক্তির ব্যবস্থা করে দাও।’

‘এটা আনন্দসংবাদ। এ খবর জানাতে এমন বিমর্ষ হয়ে যেতে হয়?’

‘এমনটি ভাবতে গিয়ে হঠাৎ মনে হয়েছে ওকে তো গৃহভৃত্যের কাজে ঘরে আটকে রাখা ঠিক হবে না। আবার ও চলে যাবে, এমন অগ্রিম আশঙ্কায় চট করে যেন মনের মধ্যে ঘা-ও খেয়েছি। সেই ঘা বিমর্ষ করে দিয়েছে, যদিও এর আড়ালে আছে দুখুর মঙ্গল হোক―এই কামনা। যদিও কথাটা ভাবতে গিয়ে আনন্দই পেয়েছি।’

দারোগার মুখে হাসি ফুটল। বললেন, ‘এজন্য তো বলি নারীর মন বুঝা দায়। মমতায় চোট লাগলেও তারা কাঁদে, আনন্দেও আবার তারা কাঁদে!’

শামসুন্নেসা খানম স্বামীর কথার তল খুঁজে পেলেন না। পেলেন না নিজের মনের তলও। তবু নিজেদের ঘর থেকে স্বামীর সঙ্গে বেরিয়ে এলেন পেছন পেছন। সামনে এগোতে এগোতে দারোগা সাহেব বললেন, ‘কোথায় আমাদের কবি, কোথায় গায়করাজ?’

গৃহকর্ত্রীর আচরণে ভয়ে কিছুটা মুষড়ে পড়েছিল দুখু। ব্যালকনির আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিল নিজেকে লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে। দারোগা বাবুর কথা শুনে প্রাণে পানি পেল। ভর্ৎসনার পরিবর্তে তার হাস্যোজ্জ্বল প্রশংসাবাক্য আটকে থাকা দম ফিরিয়ে দিলো। ব্যালকনির আড়াল থেকে বেরিয়ে দুখু বলল, ‘আজ্ঞে, এখানে হুজুর।’

‘দেখেছ শামসুন্নেসা? উপাধি দুটো মাথায় তুলে নিয়ে সাড়া দিয়েছে তোমার আদরের দুখু?’

একথা শুনে লজ্জায় অবনত হলো দুখু।

শামসুন্নেসা বললেন, ‘তোমাকে পড়াশোনা করতে হবে। পড়াশোনা করলে অনেক বড়ো হতে পারবে তুমি। আমাদের ছেড়ে যাওয়া উচিত পড়ার উদ্দেশ্যে―ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এটা মায়ার টান। মায়ার খেলা। তুমি কোনো অপরাধ করোনি। অপরাধ হয়েছে আমার। পালিয়ে থাকবে কেন তুমি? সামনে এসো।’

স্নেহময়ী গৃহকর্ত্রীর বক্তৃতার মতো কথা শুনে বিমর্ষতা, উদ্বেগ কেটে গেল। কিন্তু মাথা অবনত করে দাঁড়িয়ে রইল সে।

দারোগা সাহেব আবার বললেন, ‘স্কুলে ভর্তি হতে হবে তোমাকে। মনে মনে তৈরি করে নাও নিজেকে।’

শামসুন্নেসা খানম বললেন, ‘কোন স্কুলে ভর্তি করাবে ওকে? তোমার তো বদলির চাকরি, আজ এখানে তো কাল ওখানে।’

‘ঠিকই বলেছ, পুনঃপুন বদলির সম্ভাবনা থাকায় ওর পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটবে আমাদের সঙ্গে থাকলে। যদিও দূরে থেকে কষ্ট পাবে তুমি, আমিও ওর অভাব বোধ করব। তবুও আমাদের মায়ার বাঁধন আলগা করে ওকে পাঠিয়ে দিতে পারি গ্রামের বাড়িতে, ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে। আমার বড়ো ভাইজান, সাখাওয়াতউল্লাহ্ সেখানে আছেন। দরিরামপুর স্কুলে ওকে ভর্তি করিয়ে দিতে পারবেন। ওর একটা স্থায়ী ঠিকানাও হবে। কী বলো তুমি?’

‘আমার মত নিলে হবে? দুখু কী বলে? দুখুর মতও নাও।’

পড়াশোনার কথা শুনে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল দুখু। কোথায় যাবে, কত দূর, কোন স্কুলে পড়বে―এসব ভাবনা মোটেও স্থান পেল না মাথায়। পড়াশোনা করতে পারবে আবার, বুকের ভেতর জমে থাকা অপূর্ণ সাধ পূর্ণ হতে যাচ্ছে শুনে আগেপাছে না ভেবে বলল, ‘আমার খুব ইচ্ছা পড়াশোনার।’

‘তাহলে সিদ্ধান্ত পাকা। কী বলো দুখু?’ প্রশ্ন করলেন রফিজউল্লাহ্।

‘আজ্ঞে, আচ্ছা।’

পাকাপাকি সিদ্ধান্তের পর শামসুন্নেসা তাকালেন দুখুর মুখের দিকে। স্বভাবজাত স্বশিক্ষিত খুদে কবির চেহারায় ভেসে উঠেছে আলোর নতুন আভা। আনন্দে বুক ভরে গেল দেখে। তবুও স্নেহধন্য এ বালকটির সঙ্গে আসন্ন বিচ্ছেদের ঘণ্টাধ্বনি তার মুখে টেনে দিলো বিচ্ছেদের কালো পর্দা।

 

 

॥ আঠারো ॥

ময়মনসিংহের ত্রিশালযাত্রা

 

ট্রেনের টিকিট কেটে দিলেন কাজী রফিজউল্লাহ্। হাতখরচও দিলেন দুখুকে। আসানসোল থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে যাত্রা করল দুখু। পকেটে আছে চিঠি। বড়ো ভাই সাখাওয়াতউল্লাহ্‌কে আগেই চিঠি দিয়ে জানিয়ে রেখেছিলেন দারোগা সাহেব। সে-খবর জানে দুখু। তবুও নতুন জায়গায় যেতে ভয় করছে। বুকে কাঁপনও জাগছে। রেলের ঝাঁকুনি আর কাঁপুনির সঙ্গে ধীরে ধীরে একাত্ম হয়ে গেল দুখু। ভয় পালিয়ে গেল। রোমাঞ্চ-অন্বেষী দুখুর উৎসাহ নতুন কিছু দেখার ঘোরে ডুবে রইল, নতুনকে আবিষ্কারে ওত পেতে থাকা নেশার টানে এগিয়ে যেতে লাগল সামনে। ক্রমশ কয়লাখনির এই অঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগল ওপারের সবুজ বাংলার দিকে। বিস্তীর্ণ বিল আর মাঠের পর মাঠ, ধানখেত, কচি গাছে সবুজ ঢেউ নজরে পড়তে লাগল। সবুজ গাছগাছালি, খালবিল আর মাঠের পর মাঠের ধানগাছের সমারোহ বুক জুড়িয়ে দিলো। পুরোনো বন্ধন, মায়ার গিঁট আলগা হয়ে খুলে যেতে লাগল। আলগা কি আর হতে পারে? পুরাতনকে কি দূরে ছুড়ে ফেলে দেওয়া যায়?

পশ্চাতের জীবন ধেয়ে আসছে পিছু পিছু। দুখু ছুটেছে সামনে। ট্রেনের ঝিকঝাক ঝাঁকুনির মধ্যে ডুবে থাকতে থাকতে হঠাৎ হাজির হলো জানন্দ, প্রাণের বন্ধু প্রশ্ন করল, ‘কিরে দুখু, আমাকে ছেড়ে কই যাস? কষ্ট হচ্ছে না তোর?’

দুখু উত্তরে বলল, ‘পড়াশোনা করতে যাচ্ছি। শুনে কি তোর কষ্ট হচ্ছে, না আনন্দ?’

‘আনন্দ হচ্ছে। কষ্টও মিশে যাচ্ছে আনন্দের সঙ্গে। আমার কথা ভুলে যাস নে যেন?’

‘না জানন্দ, না। কারো কথা ভুলব না। তোর কথাও না। তবুও তো কঠিন এ সংসার থেকে সামনে এগোতে হবে, যেতে হবে না? কী বলিস তুই?’

জানন্দ বলল, ‘যা, এগিয়ে যা তুই।’

আচমকা দুখুর বুকের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল ছোটো বোন কুলসুম। দুখুর চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলল, ‘দাদা, কাঁদছ কেন তুমি? কী তোমার কষ্ট, দাদা?’

‘নারে কুলসুম। কই কাঁদছি? এমনি পানি এলো চোখে। ট্রেনে যাচ্ছি তো। বাতাসের চাপে চোখ থেকে জল ঝরছেরে পাগলি!’

‘না, দাদা, তুমি কাঁদছ। তোমার বুকের ভেতর অনেক কষ্ট! তোমার কষ্টটা আমার কাছে রেখে যাও। আর সঙ্গে নিয়ে যাও তোমার বাঁশের বাঁশিটা।’

দুখু বলল, ‘আচ্ছা’।

হঠাৎ দুখুর মনে হলো পুরো পৃথিবীটাই একটা দোলনা। দুলছে সে সেই দোলনায় বসে। দোলনার দড়িটা গেঁথে আছে কোথায়? শক্ত আছে তো গিঁট? পড়ে যাবে না তো দোলনা ছিঁড়ে?’

মা জাহেদা খাতুন এসে ছেলের মুখে হাত রেখে বললেন, ‘বাপজান, জন্মের পর থেকে শুধু কষ্ট করে গেলি। দুঃখ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারিনি তোর মতো মেধাবী ছেলেকে। আমাকে ক্ষমা করে দিস।’

‘ছি, কী বলছ মা! কত কিছু দিয়েছ! এখনো তো ঝুলে আছি পৃথিবী নামের দোলনায়। আর দোলনার দড়িটায় যে গিঁট দিয়ে রেখেছে তোমার মমতার শেকল। এ শেকল কি সহজে ছিঁড়বে? তোমার সন্তানের কি পতন ঘটতে পারে, ঘটবে, মা?’

‘এই যে, কাঁদছেন কেন? চোখ খোলেন? টিকিট দেখান।’

টিকিট-চেকারের তাড়া খেয়ে দুলতে থাকা দুখুর ঘুম চলে গেল। স্বপ্নের ঘোর থেকে উধাও হয়ে গেল জানন্দ, কুলসুম আর মা। নিজেকে সহজ করতে গিয়ে মাথা ঝাঁকি দিলো সে। সঙ্গে সঙ্গে একরাশ ধুলো উড়ে ঢুকে গেল টিকিট-চেকারের নাকে। চট করে তার নাক জ্বলতে শুরু করল। নাকের জ্বালা সামাল দিয়ে তিনি বললেন, ‘এত অপরিচ্ছন্ন হয়ে কেউ ট্রেনে ওঠে? ট্রেন হচ্ছে ভদ্রলোকের জায়গা।’

বলতে বলতে আবার ধমক দিলেন তিনি। ভেবেছিলেন এ ছোকরা টিকিটবিহীন যাত্রী, মক্কেল পেয়ে গেছেন ভেবে ঘাট মেরে দাঁড়ালেন দুখুর সামনে, যেন পালাতে না পারে সে।

নিরাসক্ত হয়ে দুখু বলল, ‘টিকিট আছে। ঠিক জায়গায় গিয়ে টিকিট দেওয়া হবে।’

‘এই ছোঁড়া, তুই কি লাটসাহেব? সবাই দেখাচ্ছে টিকিট। তুই কেন দেখাবি না?’

‘তুই’ শব্দটা মাথায় আগুন ধরিয়ে দিলো। জেদও বাড়িয়ে তুলল। আরও শক্ত হয়ে বসে রইল দুখু।

আবারও ধমক দিলেন টিকিট-চেকার। টিকিট দেখানোর জন্য তাড়া দিলেন।

কঠিন চোখে এবার দুখু তাকাল লোকটার দিকে। বলল, ‘আর বেশি জ্বালালে টিকিটমাস্টার কিংবা গার্ডকে জানাব টিকিট থাকা সত্ত্বেও যাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন আপনি।’

‘ওরে বাবা, কী বিচ্ছুরে!’ বলেই লোকটা লেজ গুটিয়ে নত হয়ে চলে যাচ্ছিলেন।

‘শুনুন।’ গমগমে স্বরে বলল দুখু।

নির্দেশ পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন চেকার সাহেব।

লুকোনো পকেট থেকে টিকিট বের করে দুখু বলল, ‘এই যে টিকিট, দেখেছেন?’

ঢোক গিলে তিনি বললেন, ‘দেখেছি।’

‘আর শুনুন, ট্রেনে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে এমন কাউকে টিকিট দেখানোর জন্য চোটপাট করবেন না। করলে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব?’

চেকার সাহেব পালিয়ে বাঁচলেন।

দুখু অবাক হয়ে গেল। নিজের মধ্যে আবিষ্কার করল অন্য এক দুখুকে। বুঝে গেল সে-ই দুখু দুরন্ত, সাহসী। সে-ই দুখু ভয় পায় না, সে বিপ্লবী, বিদ্রোহী। ভাবতে ভাবতে আসল দুখু ভয়ে কাবু হয়ে আবার তাকাল বাইরের দিকে।

 

চলবে...