কুড়িগ্রাম জেলার মেয়েরা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। অনেক সময় সংগঠনের কাজে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম করতে গিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার গ্রামগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে। কাছ থেকে মানুষের আচার-আচরণ দেখার সুযোগ হয়। এই জেলায় শিক্ষার দিক থেকে মেয়েরা বেশ পিছিয়ে আছে। যারা নিজের মনোবল ঠিক রেখে পড়াশোনা করছে তাদেরও হতে হচ্ছে নানান সমস্যার সম্মুখীন। এখানে বাল্যবিবাহের হারও বেশি। একটি মেয়ে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর আগেই নকল সার্টিফিকেটে বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হয় বিয়ের জন্য। কোনো মেয়ের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে না হয়ে যদি কোনোক্রমে ২০ বছর পার হয়, তাহলে ঐ মেয়ের বিয়ে নিয়ে পরিবারকে হতাশায় পড়তে হয়! ঐ মেয়ের তখন খুব একটা বিয়ের প্রস্তাব আসে না। যদিও আসে সেগুলো হয় বউ মরা, না হয় তালাক দেওয়া, অথবা অন্যান্য সমস্যাওয়ালা পাত্র। তাই একরকম বাধ্য হয়েই মেয়ের বাবা-মা অপ্রাপ্ত বয়সেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। কেন এমন অনিয়ম হচ্ছে? এ থেকে আমাদের মেয়েরা কবে মুক্তি পাবে?
এখন নারীরা পুরুষদের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার নারীরা অনেকটাই উন্নত। তাহলে এই উত্তর অঞ্চলের জেলা পিছিয়ে কেন থাকবে? এখানে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তাহলেই এই জেলার নারীরা আর পিছিয়ে থাকবে না।
হোসাইন আল-নাহিদ, চিলমারী, কুড়িগ্রাম