সিরাজগঞ্জে গোখাদ্যের দাম চড়া

বিপাকে খামারিরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

কয়েক দফা বন্যায় সিরাজগঞ্জের চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া খড়সহ দানাদার খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গোখামারিরা। ফলে চরাঞ্চলের অনেক খামারি পশুর চাহিদামতো খাদ্য সরবরাহ করতে না পেরে বাধ্য হয়েই বিক্রি করে দিচ্ছেন। তারা জানায়, গোখাদ্যের দাম না কমলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের।

খামার সংশ্লিষ্টরা জানায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়িতে মিল্কভিটাকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠে হাজার হাজার গরুর খামার। এসব খামারে উন্নত জাতের গাভি পালন করে জেলার হাজার হাজার খামারি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ উত্পাদন হয়। উত্পাদিত এই দুধের বেশির ভাগ দুধ মিল্কভিটা বাকি দুধ অন্যান্য বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি ও স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু বন্যায় চারণভূমি ডুবে যাওয়া গবাদি পশুকে ঘাস খাওয়াতে পারছে না। তার ওপর দানাদার খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের চরম সংকটে ফেলেছে। বাড়ছে দুধের উত্পাদন খরচ। খামারি ও খুচরা ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি বস্তা গমের ভুসি ১১০০-১২০০ টাকা, ভুট্টার গুঁড়া ১৪৫০ টাকা, ধানের কুড়া ৫০০-৫৫০, খইল ৩২০০ টাকা, যব ৩৮ টাকা কেজি এবং ঘাস প্রতি মুঠা ১০-১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাউফিড প্রতি বস্তা ১০৫০ টাকা। অ্যাংকর ডালের ভুসি ৮০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। ধানের খড় কিনতে হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা (১০০ মুঠা)। শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ী গ্রামের বড় খামারি আজমত আলী জানান, বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খইল-ভুসি। খড়ের দামও চড়া। বন্যায় চারণভূমির ঘাস সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এতে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলুটিয়া চরের খামারি আব্দুর রাজ্জাক জানান, বন্যার পানিতে চর ডুবে যাওয়ায় চরে ঘাস নেই। এখন এমন অবস্থা যে মানুষের খাবার জোগাড় করব, না গরুর খাবার।

মিল্কভিটার পরিচালক ও রেশম বাড়ি দুগ্ধ সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ ফকির জানান, ‘গোখাদ্যের দাম আগের তুলনাই অনেক বেশি। খামারিরা নিজে না খেয়ে গরু লালনপালন করছে। এক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা পেলে খামারিরা কিছুটা হলেও বাঁচতে পারবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জানান, বন্যায় চারণভূমি ডুবে যাওয়ার তথ্য আমরা ইতিমধ্যে আমাদের রাজশাহী বিভাগীয় অফিসে প্রেরণ করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পেলে অবশ্যই খামারিদের মাঝে বিতরণ করা হবে। তিনি আরো জানান, সাধারণত বন্যার পর গবাদি পশুর খুরারোগ দেখা দেয়। এ কারণে জেলার প্রতিটি গবাদি পশুকে খুরারোগের ভ্যাকসিন বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।