গাজীনগর-চরপাতা দারুসসুন্নাত মাদ্রাসা
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
টিনের চালে একাধিক স্থানে বড় বড় ছিদ্র। বৃষ্টি হলেই ঝরঝর করে পড়ে পানি। ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বইখাতা। এ সময় পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষগুলো। ফলে বাধ্য হয়েই বন্ধ রাখতে হয় পাঠদান। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ভবনটিও জরাজীর্ণ। ফলে ভবন ধসের আতঙ্ক নিয়েই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। এ চিত্র রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর চরপাতা দারুসসুন্নাত ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার।
উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালের মাদ্রাসাটি এমপিভুক্ত হয়। পরে ২০০২ সালে সরকারিভাবে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সংস্কার না করায় ভবনটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনুদান ও সরকারি মেরামতের সামান্য বরাদ্দের টাকা দিয়ে পুরোনো ভবনের ওপরে নির্মিত ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের একটি টিনশেড ঘরে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। গাদাগাদি করে ছোট ছোট তিনটি শ্রেণিকক্ষে চলে এ পাঠদান কার্যক্রম। আবার বৃষ্টি হলেই বাধ্য হয়ে দিয়ে হয় ছুটি।
৯ম শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া আক্তার ও ৮ম শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন হাসান বলে, শ্রেণিকক্ষে বসার বেঞ্চ কম থাকায় অনেক সময় তাদের দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। তবে বৃষ্টির সময় বেশি সমস্যা হয়। চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বইখাতা ভিজে যায়। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো ফল পাননি।
মাদ্রাসার সুপার মো. শরিফ হোসেন ভূইয়া বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মাদ্রাসাটি প্রায় ৩৭ বছর আগে এমপিওভুক্ত হলেও সরকারি কোনো সুযোগসুবিধা পাচ্ছি না। সরকারিভাবে গত তিন বছর আগে একটি নতুন ভবন নির্মাণ কথা থাকলেও এখনো করা হয়নি। নতুন ভবন তৈরি, শ্রেণি সম্প্রসারণ, আসবাবপত্র, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যা, পানীয় জলের নানা সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নানা সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। কিন্তু নতুন ভবন না আসা পর্যন্ত কষ্ট করতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণে সুপারিশ করা হয়েছে অধিদপ্তরে।’