বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ রূপ নিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। গতিপথ অপরিবর্তিত থাকলে আজ রবিবার অপরাহ্নে ভারতের ওড়িশার গোপালপুর ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তমের কাছে স্থলভাগে আঁছড়ে পড?তে পারে এটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ গতকাল জানান, স্বল্প শক্তির ঘূর্ণিঝড়টি ওড়িশা হয়ে ভারতে প্রবেশ করবে। ফলে বাংলাদেশের ওপর বড় কোনো প্রভাব না পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে। অতি বৃষ্টিতে উপকূলভাগের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী কিছু এলাকাসহ ঢাকাতেও বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে যে ভ্যাপসা গরম পড়েছে, সেটিও কাটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হলেও ভারী বর্ষণ বা একটানা বর্ষণ এখনো শুরু হয়নি। তবে আজ রবিবার ও সোমবারের দিকে বৃষ্টিপাত বাড়বে। তখন গরমও কমে আসবে।
আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে ভারতের উপকূলের দিকে যাচ্ছে। ‘গুলাব’ হবে একটি স্বল্প শক্তির ঘূর্ণিঝড়, যার গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি মূলত ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব কিছুটা পড়বে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘গুলাব’ চলে গেলেও পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরো একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। আগামীকাল ২৭ সেপ্টেম্বর নাগাদ সাগরে এই সুস্পষ্ট লঘুচাপটি সৃষ্টি হতে পারে। এটি ২৯ সেপ্টেম্বর নাগাদ গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এই নিম্নচাপের অভিমুখ হবে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে। এ কারণে এ সপ্তাহে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে গতকাল রাত ৯টার দিকে দেওয়া আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র চট্টগ্রাম থেকে ৪৮০ কিলোমিটার ও কক্সবাজার থেকে ৪১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ নামটি পাকিস্তানের দেওয়া, যার ইংরেজি ‘রোজ’; বাংলায় অর্থ গোলাপ ফুল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে সর্বশেষ গত মে মাসে ‘ইয়াস’ ভারতের ওড়িশা উপকূলে আঘাত হেনেছিল। করোনা মহামারির মধ্যে গত বছর মে মাসে বাংলাদেশে যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল, তার নাম ছিল ‘আম্ফান’।