স্পোর্টস : আমাদের ফুটবল

 

স্বপ্ন দেখি ফুটবলের সাফল্য নিয়ে। ফুটবল এদেশের মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দেবে। স্বপ্ন দেখি আমাদের দেশ ফিফা বিশ্বকাপ খেলবে। একদিন বাংলাদেশের ফুটবল বিশ্বমঞ্চ মাতাবে।

পাড়ায় পাড়ায় ফুটবলের উত্সব চোখে পড়ে। বিশ্বকাপ কিংবা অন্য কোনো বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ থাকে না বলেই এদেশে অন্য দেশের সাপোর্ট নিয়ে বাকবিতণ্ডা এমনকি মারামারিও হয়। অলিগলি ছেয়ে যায় অন্য দেশের পতাকা দিয়ে। আমরা চাই না অন্য দেশ নিয়ে মাতামাতি করতে। আমরা চাই বাংলাদেশের পতাকা ছাদে, শহরের অলিগলিতে ওড়াতে। ফুটবলকে ঘিরে বিভিন্ন অভিব্যক্তি; কিন্তু যে যা-ই বলুক না কেন ফুটবলের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক আসলেই বেদনা বিধুর। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে ফুটবলের প্রাপ্তির খাতায় শূন্য। বিশ্বকাপ খেলা, বিদেশের মাটিতে সাফল্য, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাফল্য, এশিয়ান কাপ এসব বাদ দিয়ে দেখলেও সাধারণ প্রাপ্তিগুলোও মেটাতে পারেনি ভালোবাসার ফুটবল।

একটা সময় ঘরোয়া ফুটবল ছিল মানুষের আলোচনা-আগ্রহের কেন্দ্রে। সে অবস্থানকেও আগলে রাখা যায়নি। দুনিয়ার সব দেশের মানুষ নিজেদের ঘরোয়া ফুটবল, ক্লাব-সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঠিক উলটো। ফুটবলপ্রেমিরা ভালোবাসার সঠিক মূল্যায়ন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও পায়নি। তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশের ফুটবলের একটা ঐতিহ্য ছিল—আবাহনী, মোহামেডানের মতো ক্লাবগুলোকে নিয়ে মানুষ আবেগাপ্লুত হতো। কিন্তু সেই আবেগ, ভালোবাসাকে যথাযথ রাস্তায় ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল সংগঠকেরা। বিভিন্ন সময় ঘরোয়া লিগের দুর্নীতি ও বাফুফের নিয়ন্ত্রকদের অবহেলা এসব খবর দেখতে পাই। ঘুরে ঘুরে গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে বাফুফের নিয়ন্ত্রণ ছিল; কিন্তু ফুটবলের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সব ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় এ দেশ; ফুটবলেও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে আশা করি।

স্বপ্ন দেখি সেই দিনের যেদিন শুধু এদেশেই  নয়, অন্যান্য দেশেও ফুটবলকে ঘিরে বাংলার পতাকা উড়বে। স্বপ্ন পূরণে ফুটবলের সঠিক পরিচর্যা অপরিহার্য। আমাদের ফুটবল খেলোয়ারদের মূল্যায়ন একান্ত প্রাপ্য। যাতে করে আমাদের ফুটবল উন্নয়নের শিখরে পৌঁছতে পারে।

মো. আবদুল্লাহ