ফুলবাড়ীতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করে বাজারে মাংস বিক্রি করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন যত্রতত্র পশু জবাই করলেও পশু সম্পদ বিভাগ বা স্যানিটারি বিভাগের নজরদারি না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বালারহাট বাজারে দেখা গেছে, মাছ বাজারের নর্দমার পাশে ছাগল জবাই করে ছাল তুলছেন দুইজন কসাই। পাশেই ছাগলের রক্তগুলো খাচ্ছে একটি কুকুর। নর্দমার মধ্যে ফেলা হচ্ছে পশুর মলমুত্র ও নারিভুড়ি। এভাবেই তারা প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছাগল জবাই করে আসছেন। বাজারে আর কোন মাংসের দোকান না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্বেও বাধ্য হয়ে ক্রেতারা কিনে খাচ্ছেন এসব মাংস। তাছাড়া পরীক্ষা ছাড়াই রুগ্ন ও কঙ্কালসার পশু জবাইয়েরও অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।
বালারহাট বাজারের কয়েকজন মাংস ক্রেতা জানান, কসাইরা প্রতিদিনই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি করে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আমরা অগত্যা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এসব মাংস ক্রয় করছি। এরা কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট করায় দীর্ঘদিন ধরে মাংসে প্রচুর পরিমান পানি দিয়েও বাড়তি দামে বিক্রি করছে বলে তারা জানান। স্বাস্থ্যসম্মত মাংস বিক্রি নিশ্চিত করতে আধুনিক পশু জবাই কেন্দ্র নির্মাণ এবং পশু জবাইয়ের আগে প্রতিটি পশুর পরীক্ষার দাবি জানান তারা।
বালারহাট বাজারের মাংস বিক্রেতা মাসুদ রানা বলেন, বাজারে পশু জবাইয়ে নির্ধারিত জায়গা না থাকায় দোকানের সামনেই পশু জবাই করি। আগে পশু জবাইয়ের পূর্বে পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণি সম্পদ ও উপজেলা স্যানেটারি বিভাগের কর্মকর্তারা আসতেন। কিন্তু গত কয়েক মাস থেকে তারা আসেন না।
নাওডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ও বালারহাট বাজার কমিটির সভাপতি মুসাব্বের আলী মুসা জানান, বিষয়টি অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছে। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারী ইন্সপেক্টও মো. শামছুল আরেফিন জানান, কোন অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করছে কি না সে ব্যাপারে আমরা খুবই তৎপর। তবে কোন মাংস বিক্রেতা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসজেড