খুন আর অপহরণের দুই মামলায় নেত্রকোনার বারহাট্টার আ. সোবহানের সাজা হয়েছিল ৪৪ বছর। এর মধ্যে ১৯৯৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কারাভোগ করেছেন ২৬ বছর। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর অবশেষে তার জামিন মিলেছে। খুনের মামলায় ৩০ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলে জামিন চান তিনি। শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল সোমবার জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন—বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত্ দেবনাথ শুনানি করেন। আসামির পক্ষে ছিলেন সৈয়দ কামরুল হাসান কিরণ।
বিশ্বজিত্ দেবনাথ বলেন, আসামি সোবহান খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজার (৩০ বছর) রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ৫ হাজার ৮৩১ দিন বিলম্বে। আসামির বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত মঞ্জুরের পর লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হবে। তখন যদি আপিল বিভাগ আপিল খারিজ করে দেয় তাহলে বাকি সাজা তাকে ভোগ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার অপহরণের মামলায় ১৯৯৭ সালে সোবহানকে ১৪ বছরের দণ্ড দেয় জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। ইতিমধ্যে তিনি এই সাজা ভোগ শেষ করেছেন। এছাড়া তাজু মিয়া ওরফে ভোলাকে খুনের মামলায় ঐ বছরই আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। এই যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল ২০০৫ সালে খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ হাজার দিন বিলম্বে লিভ টু আপিল করেন সোবহান। একই সঙ্গে জামিনও চান তিনি। ঐ জামিনের শুনানিতে নেত্রকোনা জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এই বন্দির বিষয়ে একটি চিঠি পাঠায়। সেখানে বলা হয়, ১৯৯৫ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে সোবহান কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে তার অর্জিত রেয়াত পেয়েছেন ৭ বছর ৭ মাস ২৭ দিন। পুরো কারাভোগ শেষে তার মুক্তির মেয়াদ ২০৩১ সালে জুন মাসে হতে পারে। পরে এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ জামিন মঞ্জুর করে সোবহানের।