নাঙ্গলকোটে শসা চাষে আগ্রহ বাড়ছে

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

নাঙ্গলকোটের কয়েকটি এলাকায় আবাদ হচ্ছে শসা। লাভবান হওয়ায় দিনদিন কৃষকদের মাঝে শসা চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলার বাতুপাড়া, চাঁন্দগড়া, খাঁটাচৌ, গোমকোট গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিস্তীর্ণ খেত জুড়ে ব্যাপক হারে শসা আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে বিক্রিও শুরু হয়েছে। কৃষকরা বলছেন অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শসার দাম কম হলেও খরচ বাদ দিয়ে তারা লাভের মুখ দেখছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রমতে, উপজেলায় ৫৪ হেক্টর জমিতে শসা আবাদ করা হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১০ মেট্রিক টন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা শসা খেতের পরিচর্যা করছেন। কেউ শসা তুলে বাজারজাতকরণের জন্য খেতের আইলে স্তূপ করছেন, আবার কেউ খেতে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। তারা জানান, ৩-৪ দিন পরপর শসা কেটে খেতের আইলে স্তূপ করলে পাইকাররা সেখান থেকে কিনে নিয়ে যায়। গত প্রায় দেড় মাস থেকে কৃষকরা খেত থেকে শসা তুলে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন।

খাঁটাছৌ গ্রামের মাহবুবুল হক কবিরাজ বলেন, তিনি কয়েক বছর থেকে শসার আবাদ করে আসছেন। চলতি বছর ৭২ শতক জমিতে শসা চাষ করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকার শসা বিক্রি হয়েছে। নোয়াখালী, ফেনী ও লাকসাম থেকে পাইকাররা এসে শসা নিয়ে যান। তিনি আরো বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে শসা চাষের জন্য কোনো সহযোগিতা পাই না। বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে খেতে ওষুধ প্রয়োগ করি।

গোমকোট গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, গত ১৩ বছর ধরে তিনি শসা চাষ করে আসছেন। প্রতি বছর শসা চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় শসার দাম কম হওয়ায় এবার লাভের পরিমাণ কম হবে। আমরা নিজেরা শসা খেতের পরিচর্যা থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক প্রয়োগ করি। কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা কখনো আমাদের খোঁজ-খবর নিতে আসে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শসা চাষাবাদের সময় নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।