জন্ম ২৩ এপ্রিল ১৫৬৪ এবং মৃত্যু ২৩ এপ্রিল ১৬১৬। কর্মজীবন ১৫৮৫ থেকে ১৬১৩ সাল পর্যন্ত। তিনি একজন ইংরেজ কবি, নাট্যকার ও অভিনেতা। তাঁকে ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের একজন অগ্রণী নাট্যকার মনে করা হয়। তাঁকে ইংল্যান্ডের ‘জাতীয় কবি’ এবং ‘বার্ড অব অ্যাভন’ (অ্যাভনের চারণকবি) নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। তাঁর সময়কালে যে রচনাগুলি পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৩৮টি নাটক এবং ১৫৪টি সনেট। এছাড়া দুটি দীর্ঘ আখ্যান-কবিতা এবং আরো কয়েকটি কবিতা। কয়েকটি লেখা শেকসপিয়র অন্যান্য লেখকের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছিলেন। তাঁর নাটক প্রতিটি প্রধান ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অপর যে কোনো নাট্যকারের রচনার তুলনায় অধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে।
শেকসপিয়রের পরিচিত রচনাগুলির অধিকাংশই মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৫৮৯ থেকে ১৬১৩ সালের মধ্যে। তাঁর প্রথম দিকের রচনাগুলি ছিল মূলত মিলনান্তক ও ঐতিহাসিক নাটক। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে তাঁর দক্ষতায় এই দুটি ধারা শিল্পসৌকর্য ও আভিজাত্যের মধ্যগগনে উঠেছিল। এরপর ১৬০৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানত কয়েকটি বিয়োগান্ত নাটক রচনা করেন। এই ধারায় রচিত তাঁর হ্যামলেট, কিং লিয়ার ও ম্যাকবেথ ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। জীবনের শেষ পর্বে তিনি ট্র্যাজিকমেডি রচনায় মনোযোগী হন। এই রচনাগুলি রোম্যান্স নামেও পরিচিত। এই সময় অন্যান্য নাট্যকারের সঙ্গে যৌথভাবেও কয়েকটি নাটকে কাজ করেন তিনি।
শেকসপিয়রের শৈশব এবং কিশোর কেটেছে স্ট্র্যাটফোর্ড অন-অ্যাভনে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিয়ে করেন। শেকসপিয়রের তিন সন্তান—সুসান এবং হ্যামনেট ও জুডিথ ছিলেন যমজ। ১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে লন্ডনে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লর্ড চেম্বারলেইনস ম্যান নামে একটি নাট্যকোম্পানির তিনি ছিলেন সহ-স্বত্ত্বাধিকারী। এই কোম্পানিটিই পরবর্তীকালে ‘কিংস মেন’ নামে পরিচিত হয়। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগত্ থেকে সরে আসেন এবং স্ট্র্যাটফোর্ডে ফিরে যান। তিন বছর বাদে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। শেকসপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না। তাঁর চেহারা এমনকি তাঁর নামে প্রচলিত নাটকগুলি তাঁরই লেখা নাকি অন্যের রচনা—এসব নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে।
শেকসপিয়রের মৃত্যুর পর তাঁর খ্যাতি হ্রাস পেয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীতে খ্যাতির শীর্ষে ওঠেন। রোম্যান্টিকেরা তাঁর রচনার গুণগ্রাহী ছিলেন। ভিক্টোরিয়ানরা রীতিমতো তাঁকে পূজা করতেন; জর্জ বার্নার্ড শ-র ভাষায় যা ছিল চারণপূজা (bardolatr)। বিংশ শতাব্দীতেও গবেষণা ও নাট্য উপস্থাপনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর রচনাকে পুনরাবিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়। আজো তাঁর নাটক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুচর্চিত। সারা বিশ্বের নানা স্থানের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা আঙ্গিকে এই নাটকগুলি মঞ্চস্থ ও বিখ্যাত।
মাজহারুল ইসলাম শামীম