প্রত্নতত্ত্ব : জোড়বাংলা মন্দির

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। পাবনা সদরের দক্ষিণ রাঘবপুরে এর অবস্থান। এখন ঐ পাড়াটি ‘জোড়বাংলা পাড়া’ নামে পরিচিত। ইট দ্বারা নির্মিত। নির্মাণ সৌকর্যে অত্যুজ্জ্বল। দুটি দোচালা সংযুক্ত ছাদ দিয়ে গড়া। ওপরের পাকা ছাদটি দোচালা প্রকৃতির। মন্দিরটির সামনে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। যেগুলো দুটি স্তম্ভের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। উঁচু মঞ্চের ওপর স্থাপিত এই নির্দশনটি। দেয়ালের নকশা ও কারুকার্যের ভিত্তিতে এটি কান্তনগর মন্দিরের অনুরূপ।

সামনের প্রকোষ্ঠ ৭.৩১ মিটার – ৭.৯২ মিটার, পেছনের প্রকোষ্ঠ ৬.১২ মিটার – ২.২৮ মিটার আয়তন বিশিষ্ট। উচ্চতা ৭.০১ মিটার। মন্দিরের দুটি কক্ষের সামনেরটি মণ্ডপ এবং পেছনেরটি গর্ভগৃহ হিসেবে ব্যবহূত হতো। মণ্ডপের সামনের দেয়ালে তিনটি খিলান বিশিষ্ট প্রবেশপথ রয়েছে। অনুরূপভাবে গর্ভগৃহের উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে মণ্ডপ ও গর্ভগৃহের মধ্যস্থলে আরো একটি প্রবেশপথ আছে। দুদিকে ৮টি করে ১৬টি স্তম্ভ।

পোড়ামাটির ফলকের কারণে মন্দিরটি দর্শনাথীদের কাছে বেশ চিত্তাকর্ষক। বহু ভাঁজ বিশিষ্ট খিলান দরজার ওপরে রামায়ণ ও মহাভারত বর্ণিত যুদ্ধ এবং পৌরাণিক কাহিনি চিত্রিত। মন্দিরের স্তম্ভগুলোর ভিত্তিমূলে পৌরাণিক ও সামাজিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

লোকশ্রুতি অনুয়ায়ী, মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন ব্রজমোহন ক্রোড়ী। যিনি মুর্শিদাবাদ নবাবের তহশীলদার ছিলেন। তবে মন্দিরটি আবিষ্কারের সময় কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি। তাই এর সঠিক ইতিহাস অজানা। তবে অনুমান করা হয়, এটি ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত।

১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে মন্দিরটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাসনাত মোবারক