মহিষলুটি মত্স্য আড়তে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা

প্রয়োজন নৈশ ব্যাংক ও পুলিশ ফাঁড়ি

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

ফজরের আজানের রেশ কাটতে না কাটতেই মুখরিত হয়ে ওঠে সিরাজগঞ্জের মহিষলুটি বাজার। এ বাজারে মাছের আড়তে নিক্তি বাটখাড়া, দাঁড়িপাল্লার আওয়াজ, পাইকার-ব্যাপারীদের কোলাহলে রাতের আঁধার কেটে যায় ক্রমশ। সূর্যের দেখা পাওয়ার আগেই বিক্রি হয়ে যায় বিপুল পরিমাণ মাছ।

হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের দক্ষিণ কোল ঘেঁষে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল এই মাছের বাজার। চলনবিল এলাকার বিভিন্ন গ্রামের মাছ চাষিদের যাতায়াতের ব্যবস্থা এখানে ভালো। নাটোরের সিংড়া থেকে আসা মত্স্য ব্যবসায়ী হরেন্দ্র নাথ হালদার বলেন, তাদের স্থানীয় বাজারের চেয়ে মহিষলুটিতে মাছের দাম ভালো পাওয়া যায়। তাই তারা এখানে মাছ বিক্রি করতে আসেন।

মহিষলুটি একতা মত্স্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান সরকার জানান, ২০০৪ সালে এখানে মাছের আড়ত প্রতিষ্ঠিত হয়। যোগাযোগ করা হয় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের পাইকারদের সঙ্গে। ক্রমশ জমে ওঠে আজকের এই বিপুল ব্যবসা। প্রতিদিন সারা দেশ থেকে এখানে প্রায় ৪ হাজার পাইকার আসেন। চলনবিলের প্রাকৃতিক মাছ ছাড়াও পাবনা, নাটোর, রাজশাহী থেকে আসে চাষ করা মাছ। খুলনা থেকে আসে চিংড়ির চালান। রুই, কাতলা, বোয়াল, মৃগেলসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ বিক্রি হয় প্রতিদিন। গড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেন হয়। এক প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি বলেন, বহিরাগত পাইকারদের থাকা-খাওয়ার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। নেই তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি নৈশকালীন ব্যাংক দরকার। এসব ব্যবস্থা করলে দ্বিগুণ ব্যাপারী বাড়বে।

তাড়াশ উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মশগুল আজাদ বলেন, আপতত মহিষলুটি মত্স্য আড়তে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর অন্যান্য সমস্যার কথা তিনি মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করবেন। সিরাজগঞ্জ জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী বলেন, মহিষলুটি মত্স্য আড়তের সমস্যা সমাধানে তিনি তাড়াশ উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করাসহ জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করবেন।