চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ জাহিদুল ইসলাম মিজান ওরফে বোমা মিজানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। অপর আসামি জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম এ রায় দেন।
গত ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে পুলিশের তল্লাশি চৌকির সামনে বোমা হামলা চালায় জেএমবি সদস্যরা। এই বোমা হামলার ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও শাহাবুদ্দিন নামে এক বিচারপ্রার্থী মারা যান। আহত হন কনস্টেবল আবদুল মজিদ, রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, শামসুল কবির ও আবু রায়হানসহ ১০ জন।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মনোরঞ্জন দাশ জানান, দণ্ডিত দুই আসামির মধ্যে জাবেদ ইকবাল রায়ের সময় আদালতে কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন। সেখানে এক মামলায় তার ২৯ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। বোমা তৈরির দক্ষতার কারণেই সংগঠনে তার নাম হয় ‘বোমা মিজান’ বা ‘বোমারু মিজান’।
আদালত সূত্র জানায়, আহত পুলিশ কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ঐ ঘটনায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার তত্কালীন পরিদর্শক হ্লা চিং প্রুং। মামলায় জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল এবং বোমার কারিগর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানকে আসামি করা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের পর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৭৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩২ জনের সাক্ষ্য শেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
দণ্ডিত দুই আসামির মধ্যে জাবেদ ইকবালের মতো বোমা মিজানও গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। ত্রিশালের ঘটনার পর পালিয়ে ভারতে চলে যান মিজান। সেখানে জেএমবিকে সংগঠিত করে জঙ্গি তত্পরতা শুরু করেন। ২০১৪ সালের অক্টোবরে বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণের পর আবারও মিজানের নাম আলোচনায় আসে। তারপর ২০১৮ সালের আগস্টে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার হন মিজান। বর্ধমান বিস্ফোরণের মামলায় চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে ২৯ বছরের সাজা দেয় ভারতের একটি আদালত। এছাড়া দেশেও বিভিন্ন মামলায় মিজানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।