এক দিনের ব্যবধানে দেশে দৈনিক করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার আবার বেড়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৯২৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৯৪ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী দৈনিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। সাত মাস পর আগের দিন রবিবার শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নামার তথ্য এসেছিল। ঐ দিন শনাক্তের হার ছিল ২ দশমিক ৯০ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে ৭৯৪ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৮। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ১৮ জন। তাদের নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ৫৯১। এই সময়ে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৮৩৪ জন, তাদের নিয়ে এই পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠল ১৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৮ জন।
দেশে বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা মাত্র ১১ হাজার ৫৭৯ জন। অর্থাত্ দেশে এখন এই সংখ্যক মানুষ করোনা ভাইরাস সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছে। অথচ গত আগস্ট মাসে দিনে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা লাখের উপরে উঠেছিল। এক সপ্তাহে শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। গত এক দিনে সারা দেশে মোট ২৪ হাজার ৯২৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ৪১৮টি নমুনা। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ; মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৫৬৮ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের ৭১ শতাংশের বেশি। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায়ই শনাক্ত হয়েছে ৪৯৫ জন রোগী। দ্বিতীয় সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় ২৫ জন। যে ১৮ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে সাত জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জন, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের এক জন করে এবং সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন তিন জন। মারা যাওয়াদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন নারী, আট জন পুরুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ১০ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। দুই জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, পাঁচ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং এক জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল। এদিকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫৯ জন। তাদের মধ্যে ৮৭ জন পুরুষ আর নারী ৭২ জন। তাদের ৭১ দশমিক সাত শতাংশই করোনা ভাইরাসের টিকা নেননি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।