কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টিলা কাটা চলছে। টিলার মাটি অন্যত্র বিক্রি ও স্থানান্তর করার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) মাধবপুর চা বাগানের ফাঁড়ি পদ্মছড়া চা-বাগানের একটি টিলা কেটে ট্রলিযোগে শ্রমিকরা মাটি তুলে নিচ্ছেন। বড় একটি টিলার গা ঘেঁষে মাটি কেটে নেওয়ায় ঐ অংশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বর্ষণের সময়ে টিলা ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগানের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত পাহাড়ি ছড়ার গা-ঘেঁষা টিলা কেটে সিলিকা বালি ও পলিমাটি ট্রাক ও ট্রলিযোগে বহন করে চলেছে। এতে চা বাগানের রাস্তাঘাট, পাহাড়ি ছড়া ও টিলার নানা স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার কালেঙ্গা, দেওয়াছড়া, বাঘমারা, সরইবাড়ি, আদমপুর ও ইসলামপুরের রাজকান্দি, টিলাবাজার, আলীনগরের সুনছড়া, কালাছড়া, নূরজাহান, রাসটিলাসহ বিভিন্ন স্থানে অবাধে টিলা কাটা চলছে। লাউয়াছড়া এলাকার নূরজাহান, কালাপুর, রাজটিলা এলাকায় টিলা কেটে রিসোর্ট বা অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করছে। রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা এলাকায় নানা সময়ে টিলা কাটার অভিযোগ তুলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের বসতি করতে পাহাড়ি টিলাও কেটে ফেলছে। টিলা কেটে ইটের ঘর তৈরি করছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বাড়িঘর। মাধবপুর চা-বাগান ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, চা- বাগানের ঐ টিলা ধসে পড়ায় শ্রমিকরা কথা বলে নিচ থেকে মাটি তুলে নিচ্ছেন। এখানে টিলা কাটা হচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা জানান, জেলা থেকে সব স্থানের খবর সবসময় পাওয়া যায় না। খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে না গেলে কাউকে পাওয়াও যায় না। তাছাড়া উপজেলা পর্যায়ে এসব বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনও পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কোনো ভাবেই টিলার মাটি কাটা যাবে না। বিষয়টি আমি দেখছি। টিলা কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।