সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
২৩ ডিসেম্বর ১৯৮৫। ফ্লাড লাইটের আলোয় ঢাকা স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ ৮-০ গোলে হারাল মালদ্বীপকে। সাবেক তারকা ডিফেন্ডার কায়সার হামিদ বললেন, ‘সেই ম্যাচে আমি দুই গোল করেছিলাম।’ সেই মালদ্বীপকে হারাতে এখন কৌশল নির্ধারণ করতে হয়। জীবন থেমে থাকে না। অতীত ফুটবল ছাপিয়ে মালদ্বীপ পরিবর্তন এনেছে। আর কখনোই ৮ গোল হজম করেনি। ১-২, ৩-১ কিংবা ১-১। ঘুরেফিরে স্কোর লাইনটাও এমনই ছিল। আর যদি সর্বশেষ স্কোর লাইনে চোখ রাখায় যায় তাহলে দেখা যায় মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ শেষ তিন ম্যাচেই হেরেছে। এর মধ্যে প্রথম দুই হার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। শেষ প্রীতি ম্যাচটিতে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। আর এখন মালদ্বীপে অনুষ্ঠানরত সাফের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলটির নামও মালদ্বীপ। ২০২০ সালে ঢাকায় সাফের ফাইনালে টাইব্রেকিংয়ে মালদ্বীপকে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ঢাকায় ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সাফে মালদ্বীপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারতকে হারিয়ে। সেই মালদ্বীপ এবার নিজেদের ঘরের মাঠে ১৩তম সাফের আয়োজক হয়েছে। অথচ নিজ ঘরে প্রথম ম্যাচেই নেপালের কাছে ১-০ গোলে হারা দিয়ে শুরু করে। আজ দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশের বিপক্ষে। মালদ্বীপ যদি আজ হেরে যায় তাহলে নিজেদের আয়োজনের টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠার সব দুয়ার প্রায় বন্ধই হয়ে যাবে। আর বাংলাদেশ যদি জয় পায় তাহলে ফাইনালের হাতছানি দেখবে। ফাইনালের দরজায় নক করবে জামাল ভুঁইয়ার বাংলাদেশ। অন্য হিসাব-নিকাষের পরও শেষ ম্যাচ থাকবে নেপালের বিপক্ষে। এখানে সেমিফাইনালে নেই। সরাসরি ফাইনাল ম্যাচ খেলবে শীর্ষ দুই দল।
গতকাল মালদ্বীপে সংবাদ সম্মেলনে মালদ্বীপের কোচ আলী সুজানী আজ বাংলাদেশের ওপর মরণ কামড় দেবে সে কথাই জানিয়ে দিয়েছে। আজ জিততে না পারলে মালদ্বীপের সর্বনাশ সেটা বুঝতে বাকি নেই। মালদ্বীপের আক্রমণভাগে আলী আশফাক আছেন। উপমহাদেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড আলী আশফাক। তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের সব খেলোয়াড়ের শক্তি-সামর্থ্য জানেন। রক্ষণদুর্গ কীভাবে তছনছ করবেন সেই মন্ত্রটা জানা আছে। বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক, রজনী, হাসান আল মামুন, পারভেজ বাবু, ফিরোজ মাহমুদ টিটু, আরিফ খান জয়, মতিউর মুন্নাদের মতো ফুটবলারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতায় ঠাসা মালদ্বীপের আলী আশফাক। এর বাইরে মালদ্বীপরে বর্তমান দলে আছেন আরো প্রায় ৯ জন ফুটবলার যারা বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের বিপক্ষে খেলেছেন। বলা যায়, তারাও পিছিয়ে নেই। সবকিছু হিসাব করলে দেখা যায়, কঠিন লড়াই হবে। মালদ্বীপের জন্য আজকের ম্যাচটা যেমন জীবন-মরণ লড়াই তেমনি ২ খেলায় ৪ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশের জন্য ফাইনালে পথে ওঠার লড়াই।
মালদ্বীপের কোচ আলী সুজানী বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে বাংলাদেশ দুই ধরনের খেলা খেলেছে। বাংলাদেশ সেটপিসে ভালো। কাউন্টার আক্রমণেও ভালো। জানি না আমাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ কী রণকৌশল সাজাবে। আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা বাংলাদেশের কাউন্টার আক্রমণ এবং সেটপিস নিয়ে সাবধান থাকব।’ আলী আশফাক সম্পর্কে কোচ বলেন, ‘সে আমাদের সবচেয়ে দক্ষ ফুটবলার। আশাকরি, আজকের ম্যাচে আমরা ভালো রেজাল্ট করে বের হবো।’