মহিলা সমিতিতে নতুন নাটক ‘সোহোতে মার্কস’

কার্ল মার্কস ফিরেছেন পৃথিবীতে...

মৃত্যুর ১০০ বছর পরে কার্ল মার্কস কি সত্যি সত্যি পৃথিবীতে ফিরেছেন? ফেরার প্রয়োজনীয়তাও কি আছে? এই যে পৃথিবীতে বাস করছি আমরা যেখানে নানা বৈষম্য বিদ্যমান, শ্রমিক তার ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত, মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা, গোটা বিশ্ব যেখানে পুঁজিবাদের দাস, সেখানে কার্ল মার্কস কি ফিরছেন এসব থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে, নাকি তার নামে চালু বদনামগুলো পরিষ্কার করতে? এমন ঘটনা নিয়েই বিন্যাস্ত হয়েছে বটতলার নতুন নাটক ‘সোহোতে মার্কস’।

‘সোহোতে মার্কস’ শিরোনামের প্রযোজনাটি যৌথভাবে মঞ্চে এনেছে নাট্যদল বটতলা ও যাত্রিক। বিখ্যাত মার্কিন ইতিহাসবিদ ও নাট্যকার হাওয়ার্ড জিনের রচনা থেকে প্রযোজনাটির অনুবাদ করেছেন জাভেদ হুসেন। নির্দেশনা দিয়েছেন নায়লা আজাদ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বেইলী রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। আর এই উদ্বোধনী মঞ্চায়নের মাধ্যমে নাটকটির টানা ছয়টি প্রদর্শনীর সূচনা হলো। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রযোজনাটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী হবে। শুক্র ও শনিবার বিকাল ৫টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আরো চারটি প্রদর্শনী হবে। দুই চরিত্রের এ নাটকে অভিনয় করেছেন হুমায়ুন আজম রেওয়াজ ও উম্মে হাবিবা।

‘আপনাদের আশ্চর্য লাগে না; কেন আমাকে বারে বারে মৃত ঘোষণা করতে হয়?’ বিদ্রুপাত্মক এই সংলাপের মাধ্যমে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসার বার্তা দেন দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক কার্ল মার্কস। সেই সুবাদে শ্রেণিহীন সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা এই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীর জীবনের গল্পগুলো উঠে আসে নাটকে।

নাটকের ঘটনাপ্রবাহে ভিন্ন এক কার্ল মার্কসের দেখা মেলে। যেখানে কঠিন তাত্ত্বিকের বাইরে স্নেহময় পিতা কিংবা দরিদ্র স্বামী হিসেবে দর্শকের সামনে হাজির হন মার্কস। নাটকের গল্পে মৃত্যুর ১০০ বছর পর মার্কস পরকালের হর্তাকর্তাদের বুঝিয়ে তাকে তার ‘বদনাম ঘোচানোর’ সুযোগ দিতে পৃথিবীতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ফেরার ব্যাপারে রাজি করান। ইউরোপের একাধিক দেশ থেকে উচ্ছেদ হবার পর তার জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটান যে লন্ডনের সোহোতে। সেখানে পৌঁছানোর বদলে স্বর্গীয় একটি ছোট দাপ্তরিক ভুলের কারণে রাস্তা পালটে যাওয়ায় মার্কস নিজেকে আবিষ্কার করেন নিউ ইয়র্কের সোহোতে। সেখানে আধুনিক আমেরিকান পত্রিকায় সে সময়ের ঘটনাগুলো পড়ে মার্কস বুঝতে পারেন তার সারা জীবনের কাজ সম্পর্কে লোকের যে শুধু ভুল ধারণা রয়ে গেছে তাই নয়, তার মৃত্যুর পর পৃথিবী খুব সামান্যই বদলেছে।

এদিকে, গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উত্সবের ষষ্ঠদিন গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় প্রাঙ্গণেমোর প্রযোজিত নাটক ‘কনডেম সেল’, পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন পদাতিক নাট্য সংসদের ‘প্রেরণা’ ও স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় এথিক নাট্যদলের ‘আয়না ঘর’।