পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনা:বিজ্ঞান

পরিবেশ দূষণের ফলে মানুষ, জীবজন্তু ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়

বিজ্ঞান

হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক

সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

 

পরিবেশ দূষণ

 

১. পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ ব্যাখ্যা কর।                                  

উত্তর : পরিবেশ দূষণের ফলে মানুষ, জীবজন্তু ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। দূষণের কারণে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। যেমন— ক্যান্সার, শ্বাসজনিত রোগ, পানিবাহিত রোগ, ত্বকের রোগ ইত্যাদি। দূষণের ফলে জীবজন্তুর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। খাদ্যশৃঙ্খল ধ্বংস হচ্ছে। ফলে অনেক জীব পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হিমবাহ গলে পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে।

২. আমরা কীভাবে শব্দ দূষণ প্রতিরোধ করতে

পারি ?                                                                                           

উত্তর : শব্দদূষণ প্রতিরোধে আমরা যেসব  পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি তা হলো—

১. বিনা প্রয়োজনে গাড়ির হর্ন না বাজিয়ে।     

২. উচ্চস্বরে গান না বাজিয়ে।    

৩. লাউড স্পিকার বা মাইক না বাজিয়ে।  

৪. কলকারখানার শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিবিধান কার্যকর   করে।      

৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে।

৩.পরিবেশ সংরক্ষণ কী ?                                                                   

উত্তর : প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং যথাযথ ব্যবহারই হচ্ছে পরিবেশ সংরক্ষণ। আমাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হলো পানি, বাতাস, মাটি, গাছপালা, তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি। জীবন ধারণের জন্য প্রতিটি সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ। বাতাস-পানি না থাকলে আমরা যেমন বাঁচতে পারব না, তেমনি তেল-গ্যাস ও গাছপালা ছাড়াও বেঁচে থাকা অসম্ভব। কিন্তু আমরা বিভিন্নভাবে পরিবেশকে দূষিত করি, প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট করি। ফলে অনেক সময় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য স্বাভাবিক রাখতে আমাদেরকে প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হবে। আর প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করাই হলো পরিবেশ সংরক্ষণ। সুতরাং বলা যায়, মানুষ ও অন্যান্য জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হলো পরিবেশ সংরক্ষণ।

৪.মাটি দূষণ কেন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?                                   

উত্তর : মাটিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর বস্তু মেশার ফলে মাটি দূষিত হয়। এই দূষিত মাটিতে ফসল চাষ করলে উত্পন্ন খাদ্যশস্যতে দূষিত জীবাণু থেকে যায়। যা রান্নার পরও খাবারে বিদ্যমান থাকে। ফলে এসব ফসল খাদ্য হিসেবে গ্রহণের ফলে মানুষের দেহে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। একারণেই মাটি দূষণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

৫.জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কেন পরিবেশ দূষিত হয়?                                    

উত্তর : জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য মানুষ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করছে। এতে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যেমন— মানুষ তার খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য গাছপালা কেটে ফসল চাষ করছে। আবার আসবাবপত্র, কলকারখানা তৈরির জন্য গাছপালা কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এছাড়া বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। যা বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পানি দূষিত করছে। বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এ থেকে নির্গত ধোঁয়া দিয়ে বায়ু দূষণ হচ্ছে। জনসংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে এসব কর্মকাণ্ড তত বেশি বৃদ্ধি পাবে, ফলে পরিবেশ আরও বেশি দূষিত হবে।

৬.মাটি ও পানি দূষণের সাদৃশ্য কোথায় ?                                                

উত্তর : মাটি ও পানি দূষণের সাদৃশ্য নিম্নরূপ—

· মাটি ও পানি দুটিই পরিবেশের উপাদান। তাই উপাদান দুটি দূষিত হলে পরিবেশও দূষিত হয়।

· দুটি দূষণের একটি বড় কারণ হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধি। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য মানুষ মাটি ও পানি উভয়ই দূষিত করে।

· দুটি দূষণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ফলে হয়ে থাকে।

· রাসায়নিক সার, কীটনাশক, গৃহস্থালির বর্জ্য, রাসায়নিক বর্জ্য ইত্যাদি ক্ষতিকর পদার্থ মাটি ও পানি উভয় ধরনের দূষণ ঘটায়।

· উভয় দূষণই মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী