বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। এ ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার। চট্টগ্রামে প্রায় দেড় মিনিট ধরে কম্পন চলাকালে বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাসা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এদিকে ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নগরে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১১৪ কিলোমিটার গভীরে এ কম্পনের সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তরের (ইউএসজিএস) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এ ভূমিকম্প বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বেশি অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মমিমুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ঢাকা থেকে ৪৭৭ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব দিকে। এ দিকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশেও বৃহস্পতিবার ভোরে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ২০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার উত্তরাংশ। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলা। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) পরিচালিত ‘আর্থকোয়াক ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ সেন্টার’ এর (ইইআরসি) গবেষণায় জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরের ৭৮ শতাংশ ভবনই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ৪১ ওয়ার্ডের ১ লাখ ৮২ হাজার ভবনের মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজারই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে এসব ভবন ও বিদ্যুেকন্দ্র ধসে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।