হলুদের অপর নাম বর্ণবতী। ফুলের রং হলুদ ও সাদা হয় এবং ৩০-৪০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৮ থেকে ১২ সেন্টিমিটার চওড়া। পুষ্পবিন্যাসের দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। হলুদ ফুল সাধারণত চোখে পড়ে না। তবে পরিণত ও পরিপক্ব হলুদগাছে ফুল নজর কেড়ে নেয়। বর্ণ, রুচি ও দীপ্তি বা উজ্জ্বলতায় হলুদ উপকারী। বলবর্ধক, রক্তপরিষ্কারক, পিত্তনাশক, দাহ-নিবারকের কারণে হলুদ কাঞ্চনী, পীত, বরবর্ণিলী, যোষিিপ্রয়া ও বর্ণবিধায়িনী নামে পরিচিত।
হলুদ Zingiberaceae পরিবারের অন্তর্গত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু, পাতা বড় আয়তাকার হয়ে থাকে এবং উদ্ভিদটি এক মিটার লম্বা হয়। হলুদের কাণ্ড মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে। বৈজ্ঞানিক নাম Curcuma longa। আদি উত্স দক্ষিণ এশিয়া। ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে জন্মে। হলুদগাছের জন্য বৃষ্টির দরকার হয়।
হলুদ হাজার হাজার বছর ধরে রন্ধনশিল্পে ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য প্রসাধনী হিসাবে হলুদের ব্যবহার বহু প্রাচীন ও সমাদৃত। অন্যদিকে হলুদের রয়েছে নানা ওষধিগুণ। হলুদে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বায়ী তেল টারমেরন, এটলানটোন, জিঞ্জিবারেইন এবং কিছু সাধারণ উপাদান চিনি, প্রোটিন, রেসিন, ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন সি রয়েছে। কফ, বাত, পিত্ত, ব্রণ, চর্মরোগ, শোথ, পাণ্ডু, কৃমি, প্রমেহ, অরুচি, উদরী ও বিষদোষ প্রশমন করার ক্ষমতা রয়েছে হলুদের। কারকিউমিন নামে এক রকম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে হলুদে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কারকিউমিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কারকিউমিন আছে বলেই লিভারের রোগ বা সমস্যায় হলুদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ। মধু মিশিয়ে খেলে লিভারের সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। কাঁচা হলুদের রস সামান্য লবণ মিশিয়ে সকালবেলা খালি পেটে খেলে কৃমি নাশ হয়। আর্থ্রাইটিস, অ্যাজমা, হার্টের রোগ, অ্যালঝাইমার, ডায়াবেটিস ছাড়াও আয়ুর্বেদিক চিকিত্সা এবং ক্যানসার প্রতিরোধেও কারকিউমিনের উপকারী গুণের কথা জানা যায়।
লেখা ও ছবি :সুশান্ত কুমার রায়