না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ড. ইনামুল হক। গতকাল দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। গুণী এই নাট্যব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তার সহকর্মীরা স্মৃতিচারণার পাশাপাশি শোক প্রকাশ করছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।
আবুল হায়াত
ড. ইনামুল হকের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব প্রায় ৫৫ বছরের। তাকে নিয়ে আসলে বলার কিছু নেই। একজন বন্ধু হারালাম, নাট্য সতীর্থ হারালাম, একজন ভালো মানুষকে হারালাম। একটা বড় শূন্যতা তৈরি হয়ে গেল। এটা কীভাবে পূরণ হবে আমি জানি না। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো এমন মানুষ ক’জন আছেন! একজন একজন করে চলে যাচ্ছেন। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন, ভালো অভিনেতা ছিলেন। তিনি নাটক, শিল্পী সব কিছুর ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। আমি মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছি। খুবই মর্মাহত আমি।
মামুনুর রশীদ
খবরটা শুনে আমি খুব আপসেট হয়ে পড়েছি। কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। দীর্ঘদিনের বন্ধুকে হারিয়ে ফেললাম। ভীষণ ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। অসাধারণ একজন বন্ধু ছিলেন। থিয়েটারের সত্য ও ত্যাগী একজন মানুষ ছিলেন। শিক্ষকতাও করেছেন। এমন একজনকে হারিয়ে ফেলা সত্যিই বড় ধরনের ক্ষতি। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করছি।
সুবর্ণা মুস্তাফা
আমি মর্মাহত, হতবাক, কিছুই বলার ভাষা নেই। শান্তিতে থাকুন ইনাম স্যার। আপনার মতো আর কেউ হবে না। লাকি ভাবি, হূদি এবং প্রৈতির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি আপনাদের দিক।
মাসুম রেজা
হারানোর পাল্লা অনেক বেশি ভারি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো হালকারা থেকে যাচ্ছি। খ্যাতিমান নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, একুশে পদকে ভূষিত ড. ইনামুল হক চলে গেলেন। বিদায় ইনাম ভাই। আপনাকে অনেক ভালোবাসতাম।
নিরব হোসেন
স্যারের সঙ্গে আমার ছোট ছোট অনেক স্মৃতি। কিন্তু একটি স্মৃতি আমার মধ্যে ভীষণভাবে নাড়া দিচ্ছে। প্রায় ৬ বছর আগে ড. ইনামুল হক স্যারকে তার বাসা থেকে নিয়ে একবার শুটিংয়ে গিয়েছিলাম। শুটিং ছিল পূবাইলে। যাওয়ার সময় রাস্তায় আমার গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। স্যার গাড়িতে বসা ছিলেন। গাড়ির চেয়ে স্যারকে নিয়ে চিন্তাই পড়ে যাই। নষ্ট গাড়িতে তাকে রাখবো কোথায়? রাস্তায় ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। উনি চমত্কারভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে ওই সময়টা ম্যানেজ করেছিলেন। ড. ইনামুল হক ছিলেন অমায়িক একজন মানুষ। আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন। দেখা হলে মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করতেন। তার চলে যাওয়া আমাকে প্রচণ্ড ব্যথিত করেছে। স্যারের বিদেহী আত্মার মাহফিরাত কামনা করি। যেখানে থাকবেন ভালো থাকবেন স্যার।
আহসান হাবিব নাসিম
আজকের নাট্য জগত্ আছেই ড. ইনামুল হকদের মতো মানুষদের কারণে। ওনারাই বাংলাদেশের নাট্য চর্চার যে ভিত্তি রচনা করেছেন। টেলিভিশন, মঞ্চ ওনাদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল বলেই সময় পরম্পরায় আজ এখানে এসেছে। তিনি এমন পর্যায়ের, এমন মাপের মানুষ, তাকে নিয়ে আমার বলার মতো যোগ্যতা আমার নেই। শুধু এটুকু বলবো, নাট্য জগতের একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো, একটি নক্ষত্র খসে পড়ল। আল্লাহ ওনাকে ভালো রাখুন।