কাঁঠালপাতায় জীবিকা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কাঁঠাল পাতায় জীবিকানির্বাহ করছেন কিছু মানুষ। তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। কাঁঠাল পাতা বিক্রিকে কেন্দ্র করে হাটও গড়ে উঠেছে শহরের এক ও দুই নম্বর রেলগুমটিতে। এ পথ দিয়ে কেউ হেঁটে গেলেই কানে ভেসে আসবে ‘পাতা লাগে পাতা’। বৃষ্টি, ঝড়সহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে পাতা বিক্রি।

২ নম্বর রেলগুমটিতে পাতা বিক্রেতা রেনু পারভীন জানান, পাতা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত আছেন পাঁচ জনের মতো। আগে তিনি একাই পাতা বিক্রি করতেন। দিনদিন বাড়ছে বিক্রেতার সংখ্যা। প্রতি আঁটি পাতা বিক্রি হয় পাঁচ টাকায়। ক্রেতারা দাম জানেন বলে তাদের আর দরদাম করার ঝামেলা হয় না।

আরেক বিক্রেতা রাবেয়া জানান, এ ব্যবসা অন্ধকারে আলো জ্বালিয়েছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুরের পাকেরহাটের জমিদারপাড়ায় তার বাড়ি। দীর্ঘ পথ ভ্যান ও রিকশায় পাতা নিয়ে এসে এই শহরে বিক্রি করেন। কোনো কাজ না পেয়ে মাত্র ৩০০ টাকা পুঁজিতে কাঁঠাল পাতার ব্যবসা শুরু করেন। পাতা বিক্রি করে তার লাভ হয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

সৈয়দপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহাজাদী বলেন, কাঁঠাল পাতা বিক্রেতা নারীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চাইলে তাদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ঐ নারীদের সমিতি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।