ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছেই

আবারও দাম বাড়ল সয়াবিন ও পাম অয়েলের। গতকাল বুধবার একদিনেই রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলে ৫ টাকা ও পাম অয়েলে ২ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ও সুপার পাম অয়েল ১৩০ থেকে ১৩৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু একদিন আগে তা বিক্রি হয় যথাক্রমে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা ও ১২৮ থেকে ১৩৬ টাকায়। সর্বশেষ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দাম সর্বোচ্চ ১২৯ টাকা ও সুপার পাম অয়েলের দাম ১১৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এ হিসেবে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে প্রতি লিটারে সয়াবিনে ১১ টাকা ও সুপার পাম অয়েলে ২০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়তি। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। গতকাল বাজারে খুচরা সয়াবিনের পাশাপাশি প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা ও ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে খুচরা বাজারে যে দরে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে তা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ সালের মাঝামাঝিতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৩৫ টাকায় উঠেছিল। গত এক দশকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১০০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে ওঠানামা করলেও গত এক বছর ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দর লাগামহীন। 

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই সময়ে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম ছিল ৪৭০ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে। আর এক লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয় ৮৮ থেকে ৯৩ টাকায়। আর প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েলের দাম ছিল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা।  টিসিবির হিসাবেই গত এক বছরে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ, ১ লিটারের খোলা সয়াবিন তেলে ৫১ দশমিক ৯৩ শতাংশ ও সুপার পাম অয়েলে ৫২ দমমিক ৮৭ শতাংশ দাম বেড়েছে।

এভাবে লাগামহীনভাবে সয়াবিন,

পাম অয়েলের দাম বাড়ছে কেন?

বিশ্লেষকদের হিসাবে, করোনার মধ্যেও বিশ্বে সয়াবিন, পাম অয়েলের উত্পাদন বেড়েছে। কিন্তু ডলারের বিপরীতে উত্পাদক দেশগুলোর মুদ্রা শক্তিশালী হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। এছাড়া উত্পাদক দেশগুলো রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়েছে। তবে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার আরেকটি কারণ হলো, এই তেলের উপজাত পণ্য সয়ামিলের চাহিদা কমে গেছে। ফলে দাম বেড়েছে সয়াবিন তেলের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে দেশে উত্পাদিত সরিষা, সূর্যমুখীসহ অন্যান্য তেলবীজ থেকে সোয়া দুই লাখ টন তেল পাওয়া যায়। বাকিটা আমদানি করতে হয়। মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা থেকে এই তেল আমদানি করা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যেহেতু আমাদের ভোজ্য তেলের বাজার আমদানি নির্ভর। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমলে দেশের বাজারে কমবে না।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় ভোজ্য তেলের বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মো. আলী ভুট্টো এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের বাজার গত এক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে। তাই দেশের বাজারও অস্থির। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে শ্রমিক সংকটে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় গত জুন-জুলাই মৌসুমে পাম অয়েল উত্পাদন আশানুরূপ হয়নি। সামনে ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনায় মৌসুম শুরু হবে। তাই এর আগে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমার সম্ভাবনা দেখছি না।

আমদানিকৃত পেঁয়াজ, মসুর ডাল,

রসুন, আদার দামও বেড়েছে

গতকাল বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে গতকাল খুচরা বাজারে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আর কেজিতে ৫ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। গতকাল মসুর ডালের দামও বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম মানভেদে কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বড় দানা মসুর ডাল ৮৮ থেকে ৯০ টাকা, মাঝারি দানা মসুর ডাল ৯৮ থেকে ১০০ টাকা ও ছোট দানা মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুগ ডাল ১১০ থেকে ১৩০ টাকা ও অ্যাংকর ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া দাম বেড়েছে আদা, রসুনেরও। গতকাল বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি রসুনে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা ও আমদানিকৃত রসুন ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। আর আদার দাম মানভেদে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দেশি আদা ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও আমদানিকৃত আদা ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।