দুই হার নিয়ে ওমানে ফিরল বাংলাদেশ

টানা তিন টি-২০ সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ওমানে কয়েক দিন অনুশীলনের পর প্রস্তুতি ম্যাচটাও ভালোই কেটেছিল। কিন্তু প্রথম রাউন্ডের আগে আইসিসির নির্ধারিত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ যেন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে বাংলাদেশ দলকে। আত্মবিশ্বাসের দেওয়ালে ধাক্কা লাগল।

আবুধাবিতে টানা দুটি ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরেছিল টাইগাররা। গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচেও ভাগ্য বদল হয়নি। এবার আয়ারল্যান্ডের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ দল। গতকাল আইরিশদের কাছে ৩৩ রানে হেরেছে লিটন-মুশফিকরা। 

দুই হারের তিক্ততা নিয়ে গতকাল রাতেই ওমানের মাসকাটে ফিরে গেছে বাংলাদেশ দল। রাতে আবুধাবি থেকে দুবাই হয়ে মাসকাটে গিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। এখানেই বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের তিনটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৭ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মূল লড়াই।

গতকাল টস জিতে ব্যাট করা আইরিশরা ৩ উইকেটে ১৭৭ রান তুলেছিল। জবাবে ১৪৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ দল। পিঠের ইনজুরিতে থাকা মাহমুদউল্লাহ গতকালও ম্যাচে নামেননি। সাইফউদ্দিনও একাদশে ছিলেন না। লিটন দাসই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের আগুনে ব্যাটিংই আসলে ম্যাচের গতিপথ অনেকটা ঠিক করে দিয়েছিল। পল স্টারলিং, অ্যান্ডি বালর্বিনির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শুরু, তারপর গ্যারেথ ডেলানি তোপ দাগান মুস্তাফিজদের ওপর। ৫০ বলে ৩টি চার ও ৮টি ছক্কায় অপরাজিত ৮৮ রান করেন ডেলানি। স্টারলিং ২২, বালর্বিনি ২৫, হ্যারি টেক্টর অপরাজিত ২৩ রান করেন। ২৬ রানে ২ উইকেট পাওয়া তাসকিনই বাংলাদেশের সফল বোলার। নাসুম ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। আইপিএল মাতানো মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ৪০, শরীফুল ৪ ওভারে ৪১ রান দেন।

বড় রান তাড়া করার চাপটা ইনিংসের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ১৫ রানেই নেই ৩ উইকেট। ইনিংসের পঞ্চম বলে ক্যাচ দেন নাঈম শেখ, পরে লিটন (১), মুশফিকও (৪) ফিরে যান। দুজনই বোল্ড হয়েছেন। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৪ বলে ৩৮ রান করেছেন নুরুল হাসান সোহান। পরপর দুই ম্যাচেই রান পেলেন সৌম্য। গতকাল ৩৭ রান করেছেন তিনি। এছাড়া আফিফ ১৭, তাসকিন অপরাজিত ১৪ রান করেন।

আইরিশদের পক্ষে মার্ক আডেইর ৩টি, ক্রেইগ ইয়াং ও জস লিটল ২টি করে এবং সিমি সিং ও বেন হোয়াইট ১টি করে উইকেট পান।