জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়, খেলেছেন দেশটির অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। তবে ২০২০ এর শুরুতে কার্টিস ক্যামফারের মনে হলো তার আইরিশ পাসপোর্টটা ব্যবহার করা উচিত। তাই সিদ্ধান্ত নেন দেশ বদলে ফেলার। তার বছর খানিকের মাথায় ঢুকে গেলেন ক্রিকেটের ইতিহাসে। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম বোলার হিসেবে টানা চার বলে চার উইকেট নেওয়ার অর্থাত্ ডাবল হ্যাটট্রিকের নজির গড়েন ২২ বছর বয়সি এই অলরাউন্ডার।
ক্যামফারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করে আয়ারল্যান্ড। আবুধাবিতে ২৯ বল হাতে রেখে গতকাল নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটে হারায় তারা। একই সঙ্গে গত দুই বিশ্বকাপে হারের মধুর প্রতিশোধ নেয় অ্যান্ডি বালবার্নির দল।
বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের দেখা আগেও মিলেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই খাতা খুলেছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ব্রেট লি। এরপর অপেক্ষা ৬ আসর ও ১৪ বছরের। ক্যামফারের সেই ওভারটাই ছিল নাটকীয়তা ভরা। ইনিংসের দশম ওভারে দ্বিতীয় বার আক্রমণে আসেন তিনি। আগের ওভারটা ছিল যাচ্ছেতাই।
ওভারের শুরুটা করেন ওয়াইড দিয়ে। প্রথম বলে কোনো রান দেননি। দ্বিতীয় বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কলিন অ্যাকারম্যান। অবশ্য এজন্য রিভিউর আশ্রয় নিতে হয়। তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউ হন রায়ান টেন ডেসকাট। চতুর্থ বলেও একই দৃশ্য। তবে আম্পায়ার রড টাকারকে মানানোর জন্য ফের রিভিউ নিতে হয়। কিন্তু পরের বলে আর আম্পায়ারের দিকে তাকাতে হয়নি ক্যামফারকে। ভ্যান ডার মারউইকে বোল্ড করে ডাবল হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ম্যাচ শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ৪-০-২৬-৪।
এমন ধসের পর নতজানু হয়ে পড়ে ডাচরা। ওপেনার ম্যাক্স ওডোডের ৫১ রানের সুবাদে পুঁজি পায় ১০৬ রানের। ক্যামফারের পাশাপাশি ৩ উইকেট নেন মার্ক অ্যাডের। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়েও শুরুতে পথ হারায় আয়ারল্যান্ড। তবে গ্যারেথ ডিলানির ৪৪ রান ও ওপেনার পল স্টারলিংয়ের ৩০ রানে আর অসুবিধায় পড়তে হয়নি তাদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নেদারল্যান্ডস: ২০ ওভারে ১০৬ অল আউট (ওডোড ৫১, সিলার ২১; ক্যামফার ৪/২৬, অ্যাডের ৩/৯, লিটল ১/১৪)
আয়ারল্যান্ড: ১৫.১ ওভারে ১০৭/৩ (স্টার্লিং ৩০*, ডিলানি ৪৪, ক্যামফার ৭*; ক্লাসেন ১/১৮)
ফল: আয়ারল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: কার্টিস ক্যামফার।
আন্তর্জাতিক টি-২০তে টানা
৪ বলে ৪ উইকেট
বোলার প্রতিপক্ষ সাল
রশিদ খান আয়ারল্যান্ড ২০১৯
লাসিথ মালিঙ্গা নিউজিল্যান্ড ২০১৯
কার্টিস ক্যামফার নেদারল্যান্ডস ২০২১