‘কপি করা কখনোই সুস্থ চর্চা নয়’

কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক বাপ্পা মজুমদার-এর গান মানেই দর্শক-শ্রোতাদের কাছে বাড়তি মুগ্ধতা। সংগীতের সোনালি যুগ থেকে এখন অবধি ভিন্নধাঁচের পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরানার গান উপহার দিয়ে ধরে রেখেছেন দর্শকপ্রিয়তা। নিজের নতুন গান ও ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

সম্প্রতি ‘হে পাথর’ শিরোনামে আপনার নতুন একটি গান প্রকাশ পেয়েছে। দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?

গানটিতে আমি মানবতার কথা বলার চেষ্টা করেছি। বিশ্বজুড়ে চলমান নানা সংঘাত, ক্ষমতার দাপট, গোঁড়ামিসহ নানা বিষয় সেখানে উঠে এসেছে। হয়তো তাই দর্শক-শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পাচ্ছি।

সামনে নতুন কোন কাজগুলো পাচ্ছেন দর্শক-শ্রোতারা?

একটি শর্টফিল্মের ব্যাকরাউন্ড ও ‘বিউটিফুল ভয়েজেস’ নামের একটি অ্যালবামের কাজ করছি।

‘বিউটিফুল ভয়েজেস’ অ্যালবামের কাজ কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে? কবে প্রকাশের পাবে?

অ্যালবামটির সবগুলো গানের রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। এরইমধ্যে একটি গানের মিউজিক ভিডিওর কাজও শেষ করেছি। এ বছরই অ্যালবামটি রিলিজের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তো পরিস্থিতি অনুকূলে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রিলিজ দেবো।

অনেকেই বলেন অ্যালবামের যুগ শেষ। তারপরও এমন সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ নয় কী?

এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু আমি নিজেই অ্যালবামটি প্রডিউস করছি সেহেতু এর সকল দায়-দায়িত্ব আমাকেই বহন করতে হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে বলবো এটা নিছক পাগলামি। আসলে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় নয়, নিজের ভালোবাসা থেকে কাজটি করছি।

ইদানিং ভিউ গুণে গানের মান বিচারের একটা চল শুরু হয়েছে। আপনার কাছে এই ভিউয়ের গুরুত্ব কতটুকু?

আমার কাছে ভিউয়ের কোনো গুরুত্ব নেই। একটি গানের যতগুলো ভিউ হচ্ছে ততগুলো মানুষের কাছে কিন্তু গানটি পৌঁছানোর কথা। আদৌ কী সেটা হচ্ছে? তাছাড়া ভিউ দিয়ে গানের মান বিচার করা সম্ভব না। কারণ অনেক কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্টেরও ভিউ হয়। আমার মনে হয়, এই ভুল চর্চা ত্যাগ না করলে এটা আরেকটি অন্ধকার জায়গা হয়ে থাকবে।

একটি গান হিট হলে সেই গানের দু-লাইন নিয়ে নতুন আরেকটি গান তৈরি করা হয়। এই কপি চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?

কপি করা কখনোই সুস্থ চর্চা নয়। এটাকে আমি ভালোভাবে দেখি না। একটি গানটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গান করা যেতেই পারে, কিন্তু সেটার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে। 

লেভেল কোম্পানির কাছে না গিয়ে শিল্পীরা এককভাবে গান রিলিজ দিচ্ছেন। এতে গানের প্রচার কম হচ্ছে বলে মনে করছেন না?

এ কথাতে আমি ১০০ ভাগ একমত। তবে এছাড়া তো কোনো উপায় নেই। কারণ লেভেল কোম্পানি একটি গান নিলে লম্বা সময়ের জন্য তার স্বত্ব নিতে চায়। আগের চর্চা এখনো চলমান রয়েছে। এখানে অনেক অসচ্ছ বিষয় বিদ্যমান আছে। এটার নিরসন না হলে গানের মানুষগুলোর অনিহা তৈরি হবেই।

এই রয়্যালিটি নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি সবসময়ই পরিষ্কারভাবে কাজ করি। তবে আমার লেভেল থেকে যে কাজগুলো করেছি তার হিসেব রয়েছে। কিন্তু এর আগে যে কাজগুলো করেছি সেগুলো থেকে এক বা দুই মাস রয়্যালিটি পেয়েছি। তারপর আর কোনো খোঁজ নেই!