জয়পুরহাটে হঠাত্ টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

অস্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াসহ আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে হঠাত্ করেই জয়পুরহাটে দীর্ঘমেয়াদি জ্বরসহ টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এতে জেলা হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

জেলা আধুনিক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডসহ সাধারণ ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ২২ বেডের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ১৪৩ জন। ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায় রাখার মতোও আর জায়গা নেই। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শহিদ হোসেন বলেন, টাইফয়েড জ্বরে স্যালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়। জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও অন্ত্রনালীতে এই ব্যাটেরিয়া অবস্থান করে। এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে জীবাণুগুলো গুণিতক হারে বেড়ে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জ্বরসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি সদর উপজেলার কাদোয়া গ্রামের সুমাইয়া(৫), সগুণা গ্রামের এক বছরের শিশু শাহানা, পাঁচবিবি উপজেলার জীবনপুর গ্রামের শিশু সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সাত দিন ধরে টাইফয়েডে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হাসাপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন।

জেলা আধুনিক হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিত্সক ডা. ইউসুফ বলেন, অতিরিক্ত গরমে খোলা, বাসি খাবার এবং পানির কারণে টাইফয়েড জ্বর হচ্ছে। এ সময় শিশুদের বিশুদ্ধ তরল খাবার খাওয়াতে হবে। এছাড়াও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। যে কোনো সমস্যায় দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেন তিনি।

জেলা আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার জেলায় টাইফয়েড জ্বরের প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। গত ১৫ দিনে ১২শ শিশুকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এর প্রাদুর্ভাব কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। 

হাসপাতালে সর্দিজ্বর আক্রান্ত রাগীদের ভিড়

হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদতা জানান, হোমনায় ঘরে ঘরে সর্দিজ্বর ও ঠান্ডা কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে লোকজন। ঠান্ডা কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধিতে হাসপাতালে রাগীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা গেছে, বেশির ভাগ রোগীই জ্বর ও ঠান্ডা কাশির চিকিত্সা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার তিনি অর্ধশতাধিক রোগীকে চিকিত্সা সেবা দিয়েছেন, এর মধ্যে বেশির ভাগই জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগী। এদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে মানুষ মৌসুমি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হোমনা সদরের গৃহবধূ শাহিনা আক্তার জানান, তিনি জ্বর ও ঠান্ডায় আক্রান্ত সাড়ে সাত মাস বয়েসি ছেলেকে নিয়ে চিকিত্সকের কাছে এসেছেন। তার শিশুর জ্বরের সঙ্গে ঠান্ডা এমন বেড়েছে যে, ওষুধ সেবনের পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বার করে নেবুলাইজার দিতে বলেছেন চিকিত্সক।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনোলজিস্ট আবদুল্লাহ মো. কাফি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে জ্বরের চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে দৈনিক গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন রোগীর করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে পিসিআর পরীক্ষায় প্রায় সকলেরই করোনা নেগেটিভ আসছে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুস সালাম সিকদার বলেন, হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা নিতে আসা বেশির ভাগ রোগীই জ্বরে আক্রান্ত। এটি মৌসুমি জ্বর। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।