বাংলাদেশের বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রায় দুঃস্বপ্নের ঝড় নামিয়ে দিয়েছিল স্কটল্যান্ড। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার ভয় তাড়া করছিল সর্বত্র। ধুঁকতে থাকা সংগ্রামী ব্যাটিংয়ে যেন অচেনা বাংলাদেশকেই দেখেছিল সবাই। ওমানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দৃশ্যপটে পরিবর্তন আনতে পেরেছেন ব্যাটসম্যানরা।
প্রথম ম্যাচে ব্রাত্য হয়ে থাকা নাঈম শেখই একাদশে ফিরে দলকে টানলেন। তার হাফ সেঞ্চুরি এবং সাকিব আল হাসানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াকু পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। মাসকাটের আল-আমিরাত স্টেডিয়ামে গতকাল টস জিতে আগে ব্যাট করে ওমানের বিরুদ্ধে ২০ ওভারে ১৫৩ রানে অলআউট হয়েছে টাইগাররা।
গতকাল টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। একাদশে একটিই ছিল পরিবর্তন। সৌম্যকে বসিয়ে একাদশে ফেরানো হয় নাঈম শেখকে। ওমানকে বড় রানের চাপ দেয়ার কথাই টস জেতার পরই বলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়কের লক্ষ্যকে বাস্তবে রুপ দিতে মূল কাজটা করেছেন নাঈম শেখই। এবারের আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেছেন এ তরুণ। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই হাফ সেঞ্চুরির গৌরব অর্জন করেন তিনি। শুরুটা ডট বলের মিছিলে হলেও ধীরে ধীরে স্ট্রাইক রেটে উন্নতি আনতে পেরেছিলেন। ১৭তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ৫০ বলে ৬৪ রান করেছেন নাঈম। তিনটি চার ও চারটি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি।
শুরুতে দলীয় ২১ রানের মধ্যে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান সাজঘরে ফিরেন। একবার জীবন পাওয়া লিটন ৬ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। পাওয়ার প্লে কাজে লাগানোর চিন্তায় তিনে পাঠানো মেহেদী (০) রানের খাতাই খুলতে পারেননি। চারে এসে নাঈমকে নিয়ে ইনিংস গড়েছেন সাকিব। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েই ওমানের বোলারদের তৈরি করা উতরে গেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে তারা ৮০ রানের জুটি গড়েন।
হাফ সেঞ্চুরিটা পেতে পারতেন সাকিবও। কিন্তু ১৪তম ওভারে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হন তিনি। ২৯ বলে ৬টি চারে ৪২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিক, মাহমুদউল্লাহকে বসিয়ে রেখে দ্রুত রান তুলতে আগে পাঠানো হয়েছিল সোহান (৩), আফিফকে (১)। দুজনই অবশ্য উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি।
সঙ্গত কারণেই মাহমুদউল্লাহ সাতে ও মুশফিকে আটে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামলেন মুশফিক। এর আগে ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপে আটে খেলেছিলেন তিনি। গতকাল ৬ রান করে ফিরেন মুশফিক।
ব্যাটিং অর্ডারে অবনমন হলেও শেষ দিকে অধিনায়কের ব্যাটেই দেড়শো পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। মাহমুদউল্লাহ ১৭ রান করেন। ওমানের কালিমউল্লাহ ২টি, বিলাল খান, ফায়াজ বাট ও জিশান মাকসুদ ১টি করে উইকেট পান।