বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পেরেই রোমাঞ্চিত ছিল পাপুয়া নিউগিনি (পিএনজি) দল। ম্যাচের আগে অকপটেই দলটির সেরা খেলোয়াড় চার্লস আমিনি বলেছিলেন, তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ম্যাচ এটি। সাকিব আল হাসানসহ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলা, তাদের সঙ্গে কথা বলতে মুখিয়ে ছিলেন আমিনি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবকে সামনে দেখতে পারার মুগ্ধতাই ভেসে উঠেছিল তার চোখে-মুখে।
যদিও গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে ২২ গজের লড়াইয়ে বিশ্বকাপে নবাগত পিএনজির ক্রিকেটারদের রোমাঞ্চ কিছুটা বিষাদেই রূপ নিয়েছিল। শক্তিমত্তায় দুই দলের যোজন-যোজন ব্যবধান ফুটে উঠেছিল ম্যাচে। হেসেখেলেই পিএনজিকে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল আল-আমিরাত স্টেডিয়ামে প্রথম রাউন্ডে নিজেদের শেষ ম্যাচে পিএনজিকে ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত হারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছিল। বিষম চাপে পড়ে গিয়েছিল টাইগাররা। শঙ্কায় পড়ে যায় সুপার-১২-এ খেলার সম্ভাবনা। ওমানের বিপক্ষে ম্যাচেও সংগ্রাম করেছে বাংলাদেশ। আশার কথা, চাপের অগ্নিগর্ভ থেকে উঠে দাঁড়ায় মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ওমানকে হারিয়ে সুপার-১২-এর পথ সুগম করে দলটা।
গতকাল পিএনজিকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম রাউন্ডের বাধা পার হয়ে গেল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেছে এই জয়ে। বড় ব্যবধানে জয়ের কারণে রানরেটের সমীকরণও উতরে গেছে টাইগাররা। টানা তৃতীয় আসরে প্রথম রাউন্ড থেকে মূল পর্বে গেল বাংলাদেশ।
সর্বশেষ ম্যাচের মতোই গতকালও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভাস্বর সাকিব। ব্যাটিংয়ে ৪৬ রান ও বোলিংয়ে ৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা তিনি। প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল হলেও টস জয়ী বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা নড়বড়েই ছিল। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার নাঈম শেখ (০) বিদায় নেন। কিছুটা রান পেলেও লিটন সুস্থির ছিলেন না। ২৯ রানের ইনিংসে তাকে সাবলীল মনে হয়নি। তবে বাংলাদেশের স্কোরটা মাহমুদউল্লাহ, সাকিব, আফিফ ও সাইফউদ্দিনের ব্যাটে। ৭ উইকেটে ১৮১ রানের বড় স্কোর গড়ে টাইগাররা। টি-২০ বিশ্বকাপে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
৪ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি মিস করেছেন সাকিব। ৩৭ বলে ৩টি ছক্কায় ৪৬ রান করেন তিনি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ২৭ বলে। আউট হওয়ার আগে ২৮ বলে করেছেন ৫০ রান (৩ চার, ৩ ছক্কা)। পরে আফিফ ১৪ বলে ২১, সাইফউদ্দিন ৬ বলে অপরাজিত ১৯ রান করেন।
পিএনজির মোরেয়া, রাবু, আসাদ ভালা ২টি করে, আতাই ১টি উইকেট নেন। বোলিং যেমনতেমন, ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো চোখে সর্ষে ফুল দেখেছে পিএনজি। ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে দলটি। তার পরও শেষ দিকে কিপলিন ডোরিগার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ১৯.৩ ওভারে ৯৭ রানে অলআউট হয় পিএনজি। ডোরিগা ৩৪ বলে অপরাজিত ৪৬, সপার ১১ রান করেন।
বিশেষ করে সাকিবের স্পিন পড়তেই পারেনি ব্যাটসম্যানরা। ৪ ওভারে ৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। টি-২০ বিশ্বকাপে ৩৯ উইকেটের মালিক হলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডে আফ্রিদির পাশে নাম লেখালেন সাকিব। সাইফউদ্দিন-তাসকিন ২টি করে, মেহেদী ১টি উইকেট পান।
রান প্রতিপক্ষ সাল
৮৪ পাপুয়া নিউ গিনি ২০২১
৭১ আয়ারল্যান্ড ২০১২
৬০ অস্ট্রেলিয়া ২০২১
৫৪ ওমান ২০১৬
৫১ আরব আমিরাত ২০১৬