আবারো দর্শক নিয়ে ধারণ করা হলো ‘ইত্যাদি’

 বিনোদন রিপোর্ট

 

করোনার কারণে দর্শকবিহীন ‘ইত্যাদি’র কয়েকটি পর্ব ধারণ করা হলেও এবার চিরচেনা রূপে ফিরছে অনুষ্ঠানটি। আবারো সীমিতসংখ্যক দর্শক নিয়ে ধারণ শুরু করেছে ইত্যাদি। গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত মোগল শাসক ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত বড় সর্দারবাড়ির সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধারণ করা হয়েছে এই পর্বটি। শিল্পী, কলাকুশলী ও আমন্ত্রিত দর্শকসহ সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে নিশ্চিত করা হয় সকল দর্শকের মাস্ক ব্যবহার। বড় সর্দারবাড়ির সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নির্মাণ করা আলোকিত মঞ্চে ইত্যাদির এই ধারণ অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত।

এবারের অনুষ্ঠানে গান রয়েছে দুটি। অস্তিত্বের টানে মানুষের নিজের শিকড় খোঁজার ওপর রচিত একটি গান গেয়েছেন শিল্পী কুমার বিশ্বজিত্ ও চিশতী বাউল। গানটির কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইবরার টিপু। সোনারগাঁয়ের ইতিহাসগাঁথা ও কৃষ্টিকথা নিয়ে মনিরুজ্জামান পলাশের লেখা আরেকটি পরিচিতিমূলক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন স্থানীয় অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পী। এবারের ইত্যাদিতে নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ওপর রয়েছে দুটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। রয়েছে সোনারগাঁয়ে নদীতে ভাসমান বেদে পরিবার, চর্মকার, চরাশ্রয়ী জেলে ও অন্ত্যজ সম্প্রদায়ের পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক আত্মপ্রত্যয়ী যুবক শাহেদ কায়েসের ওপর রয়েছে একটি শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। ব্যতিক্রমী মানুষ প্রকৃতি প্রেমিক বৃক্ষ সেবক খাইরুল আলমের ওপর রয়েছে একটি পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রতিবেদন। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার পানিবেষ্টিত দুর্গম গাবুরা ইউনিয়নের সুপেয় পানি কষ্টে থাকা মানুষদের ওপর রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। থাকছে গ্রিসের প্রাচীন নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী অ্যাক্রোপোলিস নিয়ে একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন।

দর্শক পর্বের নিয়ম অনুযায়ী ধারণস্থান বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ও সোনারগাঁকে নিয়ে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মাঝখান থেকে ৪ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচিত দর্শকরা একটি নাট্যাংশে অভিনয় করেন। যা ছিল বেশ উপভোগ্য।

এছাড়া নিয়মিত পর্বসহ এবারো রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু নাট্যাংশ। ই-প্রতারণা, স্মৃতির প্রতি প্রীতি, প্রজন্ম-ব্যবধানের টানাপোড়েন, তোষামোদকারীর মোসাহেবি, জ্যোতিষীর জোশ কথা ও নিদারুণ বাস্তবতা, সময় দেওয়ার সময়ের অভাব, ভাইরাল ফোবিয়ায় সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর রয়েছে বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ। বরাবরের মতো এবারো ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ইত্যাদির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। ইত্যাদির নতুন এই পর্বটি আগামী ২৯ অক্টোবর রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিটিভি ওয়ার্ল্ডে।

ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে এবারের ইত্যাদি বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে একযোগে প্রচারিত হবে না।