পাকিস্তানের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু তারা যে শক্তিশালী ভারতকে ১০ উইকেটে হারাবে, গতকালের আগেও তা ছিল অচিন্তনীয় এক ব্যাপার। ওয়ানডে, টি-২০ মিলিয়ে বিশ্বকাপে ভারতের কাছে টানা ১২ বার হারের পর প্রথম জয়টা তুলে নিল দাপটীয় ভঙ্গিমায়। ম্যাচ শেষে সেই ছন্দ ধরে রাখার কথাই জানালেন বাবর আজম।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের আলোচনা বেশ অনেক জায়গায় ছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন দুই অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও বাবর আজম। দিন শেষে বিরাটকে ছাপিয়ে সফল অধিনায়কের খাতায় নাম ওঠে বাবরেরই। তার নেতৃত্বের গুণে তিন বিভাগেই ভারতকে দাবিয়ে রাখে পাকিস্তান।
ম্যাচ শেষে পাক অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা নিজেদের পরিকল্পনা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছি। প্রথম দিকের উইকেটগুলো খুবই সাহায্য করেছে। বিশেষত শাহিনের নেওয়া উইকেট আমাদের মধ্যে একটা আলাদা আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছিল। সেটাই বাকি ম্যাচে বজায় রেখেছি আমরা। স্পিনাররাও ভালো বোলিং করেছে।’
ভারতের দেওয়া ১৫১ রানের লক্ষ্য কোনো চাপ ছাড়াই পাড়ি দেন বাবর। ৭৯ রানের ইনিংস খেলে যোগসঙ্গী হিসেবে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। নিজের ৬৮ রানের ইনিংসটি নিয়ে বাবর বলেন, ‘সব সহজ রেখে নিজেদের দক্ষতার ওপরে জোর দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য ছিল। চেয়েছিলাম ক্রিজে কামড়ে পড়ে থাকতে। আট ওভারের পর থেকে শিশির দেখা দেয়। তারপরে বল ব্যাটে ভালোই আসছিল। তবে এখনই এই জয় নিয়ে বেশি ভাবতে চাই না। এই ছন্দটা ধরে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোব।’
৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে দুরন্ত শুরু এনে দেওয়ার নায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ভারতের তিন মূল স্তম্ভ রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলিকে একাই ফিরিয়ে দেন তিনি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে জয়ে অবদান রেখে ম্যাচ-সেরা হওয়া এই পেসার বলেন, ‘এই প্রথমবার আমরা ভারতকে বিশ্বকাপে হারালাম। এর থেকে গর্বের কিছু হয় না। আমরা জানতাম যে শুরুর দিকে উইকেট পেলে খুব ভালো হবে। সেটাই হয়েছে। নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছি আজ (গতকাল)।’
বিশ্বকাপের শুরুতে এমন লজ্জার হার কেউই চাইবে না। তার ওপর সেটা যদি হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ব্যক্ত করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক, ‘নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। পাকিস্তান আমাদের সব বিভাগেই হারিয়ে দিয়েছে। যত সহজে ওরা খেলেছে, এই পিচে খেলা ততটা সহজ ছিল না। আরো ১০, ২০ রান দরকার ছিল আমাদের। কিন্তু পাকিস্তানের দুর্দান্ত বোলিং আমাদের সেটা করতে দেয়নি। প্রতিযোগিতা সবে শুরু হলো। এটাই শেষ নয়।’