করোনাকালে বেড়েছে ঝরে পড়ার প্রবণতা

 ‘অতিমারি-উত্তর শিশুদের স্কুলে ফেরা’ শীর্ষক সংলাপে তথ্য

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘অতিমারি-উত্তর শিশুদের স্কুলে ফেরা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা বলেছেন, করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর স্কুল খোলা হয়েছে। তবে দেখা যাচ্ছে ‘ঝরে পড়া’ শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। গবেষণা ও জরিপ অনুযায়ী এই সমস্যার মূল কারণ বাল্যবিবাহ এবং শিশুশ্রম। করোনাকালে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিশু মূলত দরিদ্রতা এবং অন্যান্য সামাজিক কারণে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের শিকার হয়েছে, যা প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে অধিকতর তীব্র। গতকাল এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গণসাক্ষরতা অভিযান-এর নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, সরকারের প্রস্তুতি এবং পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। বিয়ে হয়ে যাওয়া শিশুরা উপবৃত্তি পাচ্ছে না। মাঠ পর্যায়ে সামগ্রিকভাবে যাতে সব শিশু উপবৃত্তি পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রায় ১০-১২ শতাংশ মেয়ে শিশু বাল্যবিবাহের শিকার। এটি যতটা না অর্থনৈতিক, তার থেকেও অনেক বেশি সামাজিক সংকট। অভিঘাতের ফলে শিশুদের পরিবারে বিভিন্ন ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংকোচন হয়েছে। দেখা গেছে, তারা কখনো আমিষের পরিমাণ কমিয়েছেন, কখনো খাবারের পদের পরিমাণ কমিয়েছেন, আবার কখনো একবেলা খাবারও কমিয়েছেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তত ১৫-২০ শতাংশ পরিবারে শিশু খাদ্যের ক্ষেত্রেও ব্যয় সংকোচন করতে হয়েছে, যা শিশুদের পুষ্টিহীনতা অনেকাংশে বাড়িয়েছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, অতিমারির কারণে শিশুশ্রম ও অল্প অর্থে শিশুশ্রমিক নিয়োগ বেড়ে গেছে। নবম ও দশম শ্রেণির মেয়েরা স্কুলে ফিরছে না, কারণ তাদের বিয়ে হয়েছে। ২১টি জেলায় জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সের প্রায় ১৩ হাজার মেয়ের বিয়ে হয়েছে, যা আশঙ্কাজনক। যৌন নির্যাতন ও শারীরিক সহিংসতাও এর মধ্যে বেড়েছে। শাহীন আনাম সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেন। আইএলওর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর, সৈয়দা মুনিরা সুলতানা বলেন, গত ২ বছরে শিশুশ্রম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈশ্বিকভাবে এই সংখ্যা ৮৬ মিলিয়নেও পৌঁছাতে পারে।  নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপ সদস্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মোট ১৫টি সামাজিক সেক্টর নির্ভর মন্ত্রণালয় আছে যাদের বাজেটের শতকরা ২০ ভাগ শিশুদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এই বাজেট কীভাবে করা হচ্ছে  এবং এর বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তার সঠিক  পর্যালোচনা  করলে  সমস্যা  অনেকটা  নিরসন করা সম্ভব।