শরীরচর্চার জন্য কি জিমে যাবেন

শরীরচর্চা জীবনের জন্য প্রয়োজন, বিলাসিতা নয়। বছরজুড়েই নিজেকে ফিট রাখতে ব্যায়াম করা দরকার। তবে কেউ কেউ শীতের সময়টাতে বেশি করে ব্যায়াম করতে আগ্রহী হোন। এক্ষেত্রে বেছে নেন পেশাদারি জিমকে। তবে ব্যায়াম করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া যাবে না। মানতে হবে কিছু নিয়ম-কানুন। না হলে হিতে বিপরীত হবে।  

ফিটনেস ট্রেনারের সঙ্গে কথা বলুন
এ সময়ের তরুণ-তরুণীরা স্বাস্থ্যসচেতন। তারা যেমন ডায়েট করে থাকেন তেমনি প্রতিদিনের রুটিনে রাখেন শরীরচর্চাকেও। শীতে জিমে ওয়াকআউটের পাশাপাশি সেখানকার নিয়ম-কানুন, আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। প্রথমেই চেষ্টা করবেন, বাসার কাছাকাছি কোনো ভালো জিম সেন্টারকে বেছে নিতে। এতে আসা-যাওয়াতে বেশি সময় লাগবে না।

জিমের ফিটনেস ট্রেনারের সাথে মন খুলে কথা বলুন। আপনার কোনো অসুস্থতা বা শারীরিক সমস্যা থাকলে তার সঙ্গে শেয়ার করুন।  কী ধরনের ফিটনেস তৈরি করতে চান তা ট্রেনারের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারেন। পাশাপাশি কোন সময়টাতে জিম করবেন, কতক্ষণ করবেন জানিয়ে রাখুন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন ঘণ্টাখানেক জিম করতে পারেন। এবং তা ধীরে ধীরে বাড়াবেন। ভুলেও প্রথম থেকেই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ব্যায়াম করবেন না। এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে।

উপযোগী পোশাক এবং ফিটনেস জুতা
জিম করার সময় অবশ্যই জিমের উপযোগী পোশাক এবং ফিটনেস জুতা ব্যবহার করবেন। এ ছাড়া তোয়ালে, পানির বোতল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে পারেন অন্যান্য ব্যাগে। জিমের যন্ত্রপাতি ব্যবহার শিখতে সময় নিন। হুটহাট কোনো কিছু ব্যবহার করার আগে ফিটনেস ট্রেনারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। জিম শেষ করার পর অন্তত ১৫ মিনিট বিশ্রাম করবেন।

জিমের শুরুর দিন বডির টিস্যু ছিঁড়বে এবং এক্সপান্ড করতে পারে। ভয়ের কারণ নেই, এই ব্যথা সর্বোচ্চ ৩ দিন থাকে, এই ব্যথার কারণে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। আর ব্যথার ভয়ে জিম না ছেড়ে হালকা ব্যথার ওপর জিম করা ভালো, ব্যথা দ্রুত কমবে তাতে।

ব্যায়াম করুন, কথা নয়
ব্যায়ামের সময় অকারণে মোবাইলে গল্প করবেন না। পরিচিত কারও সঙ্গে খোশগল্পে মেতে উঠার চেষ্টা না করাই ভালো। এতে ব্যায়ামের প্রতি আপনারসহ অন্যদের মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। জিমে সবসময়  চুল শক্ত করে বেঁধে রাখুন। চুল খোলা রাখলে আপনার পাশাপাশি অন্যদের অসুবিধা হতে পারে। আর ইনস্ট্রুমেন্টগুলো নাড়াচাড়া করার সময় শব্দ করবেন না।  নিজের জামাকাপড়, জুতা, তোয়ালে, পানির বোতল এবং অন্যান্য সামগ্রী ছড়িয়ে রাখবেন না। কোনো কারণে যেদিন জিমে যেতে পারবেন না, সেদিন বাসাতেই ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ করে নেবেন।

জিমের সময় খাদ্য তালিকা কেমন হবে
একটি বিষয় হয়তো খেয়াল করবেন, জিমে যাওয়ার পর উপদেষ্টার অভাব হয়না।  কী খাবেন, কী করবেন- এ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলবেন। পরামর্শ দেবেন সাপ্লিমেন্ট (হাই প্রোটিন) নিতে, যাতে দ্রুত বডি বাড়ানো যায়। মনে রাখবেন, ওদের প্রধান কাজ এগুলো বিক্রি করা। এসব নেওয়া ঠিক নয়, অন্তত শুরুতে তো নয়ই। বডি যখন সেইপে চলে আসবে তখন নেওয়া যায়, তাও ট্রেনারের পরামর্শে দেশের বাইরে থেকে ক্রয় করা ভালো।

কাঁচা ছোলা দ্রুত মাসল বিল্ড করে। কলা বেশ কাজে লাগে, রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ ভালো কাজ করে।  মাছ আর চর্বি ছাড়া মাংস খাবেন।  ডিম কুসুম ছাড়া খাওয়া ভালো, যাদের বডি বেশি শুকনা তারা একটা কুসুম খেতে পারেন। কারণ, ডিমের সাদা অংশ প্রোটিন, কুসুমে ফ্যাট থাকে।

ইত্তেফাক/আরএম