‘দেশের ইতিহাসে জাতীয় ৪ নেতা থাকবেন চির ভাস্কর’

‘বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় চার নেতা থাকবেন চির ভাস্কর হয়ে। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করা যাবে না। পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ড ন্যক্কারজনক হয়েই থাকবে।’

বুধবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গীভূত বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড : বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ষড়যন্ত্র’শীর্ষক সেমিনার এবং ইনস্টিটিউটে এমফিল লিডিং টু পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া  নতুন গবেষকদের গবেষণা পরিচিতি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার মূল্য উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের মূল্যবোধকে দূরে ঠেলে দেশকে আবার পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া। এ কারণেই ঘাতকেরা প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এরপর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় চার নেতা চির ভাস্কর হয়ে থাকবেন। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করা যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, জাতীয় চার নেতা হত্যা কোন সাধারণ ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। একটি রাষ্ট্র সৃষ্টির বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চার সহযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু একটি রাষ্ট্র সৃষ্টির পর দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এবং তার সহযাত্রীদের ওই দ্বিতীয় বিপ্লব যদি সফল হতো বাংলাদেশ আজ রাজনৈতিক দীক্ষায় বিশ্বের অনন্য রাষ্ট্রে পরিণত হতো। 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে কোনোভাবেই যেন আওয়ামী লীগ মাথা উঁচু করে না দাঁড়াতে পারে। কিন্তু ওই ঘাতকেরা পরাজিত হয়েছে। 

সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর, আর জেল হত্যাকাণ্ডের ৪৬ বছর। আমাদের শুধু বিচার করলেই হবে না। এখন সময় এসেছে কমিশন গঠন করে হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের বিচার করা। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইনস্টিটিউট চার নেতা হত্যাকাণ্ড নিয়ে গবেষণা করতে পারে।

অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে গবেষণার বিষয়বস্তু ও গবেষকদের পরিচিতি নিয়ে ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দিন। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শরীফ আতিকুজ্জামান। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা মিরা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নূর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদার, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।