জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিতর্কিত’ শিফট পদ্ধতিতেই ভর্তিযুদ্ধ শুরু কাল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) শুরু হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ ভর্তিযুদ্ধ শুরু হবে। ৯ নভেম্বর শুরু হওয়া এ ভর্তি পরীক্ষা (১২,১৩,১৭ ও ২০ নভেম্বর বাদে) আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসলেও থেকে যাচ্ছে ‘বিতর্কিত’ শিফট পদ্ধতি। প্রতিদিন মোট পাঁচটি শিফটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, সাভার ও আশেপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্কুল ও কলেজ নেই। এছাড়া বাইরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হলে জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। তাই শিফট পদ্ধতি রেখেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে গত কয়েকবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কয়েকটি ইউনিটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক শিফট থেকে বেশি শিক্ষার্থী চান্স পেয়েছে আবার অন্য শিফট থেকে কম শিক্ষার্থী চান্স পেয়েছে। এমন কোনো শিফট ছিল যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীও চান্স পাননি। কোনো শিফটে প্রশ্ন কঠিন আবার কোনো শিফটে প্রশ্ন সহজ হওয়ায় এই বৈষম্য হচ্ছে বলে মনে করছে শিক্ষার্থীরা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এই শিফট পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। একই অনুষদের পরীক্ষা বিভিন্ন শিফটে নেয়ার ফলে থেকে যাচ্ছে মেধা মূল্যায়নের বৈষম্য।

জানা যায়, এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৯টি ইউনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৮৮৯টি আসনের বিপরীতে অংশগগ্রহণ করবে ৩ লাখ ৮ হাজার ৬০৬ জন ভর্তি-ইচ্ছুক। সে অনুযায়ী প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়বে ১৬৩ জন। এ বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় ও প্রশ্নের মানবণ্টনে পরিবর্তন এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ওপর ২০ নম্বর থাকছে। এছাড়া ভর্তিচ্ছুদের ৪৫ মিনিটে ৬০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান এক ধরে ৬০ নম্বরকে আবার ৮০ নম্বরে রূপান্তর করা হবে। মোট পাঁচটি ভূল উত্তরের জন্য এক নম্বর কাটা যাবে। অন্যবছর ভর্তিচ্ছুরা ৬০ মিনিটে ৮০টি প্রশ্নের উত্তর দিতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান বলেন, ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে শিফট পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তারপরেও নানা কারণে শিফট পদ্ধতি রেখেই ভর্তি পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। তবে কি কারণে শিফট পদ্ধতি রাখতে হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না।