রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) মেডিক্যাল সেন্টারের জনবল, অবকাঠামো, বার্ষিক বরাদ্দ, ওষুধ এবং সার্বক্ষণিক সেবা সবকিছুই অপর্যাপ্ত। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে শিক্ষার্থীরা ছুটেন বাইরের হাসপাতালগুলোতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য কেবল একজন ডাক্তার ডিউটি করছেন। ইমার্জেন্সি চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও নেই মেডিক্যাল সেন্টারের অধীনে। ছয় জন ডাক্তারের বিপরীতে দুজন থাকলেও একজন অসুস্থতার জন্য তিন মাসের ছুটিতে আছেন। কোনো ফার্মাসিস্ট, নার্স, ব্রাদার নেই। যন্ত্রপাতি না থাকায় নেই কোনো পরীক্ষার ব্যবস্থা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেডিক্যাল সেন্টারে ১৭ জন জনবলের বিপরীতে আছে মাত্র ছয় জন। আগে একজন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ করা হয়। তিনি চাকরি ছেড়ে চলে গেলে পরবর্তী সময়ে ঐ পদ অর্গানোগ্রামে বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া একাধিকবার মেডিক্যাল সেন্টার থেকে জনবল নিয়োগের জন্য আবেদন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমলে নেয়নি। প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা ২৫ টাকা করে মেডিক্যাল ফি দিলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ হয় না। সর্বশেষ বার্ষিক বাজেটে মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মারুফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘মেডিক্যাল সেন্টারটি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হলেও এখানকার সেবা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। হঠাৎ রাতে বা ছুটির দিনে কেউ অসুস্থ হলে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসাও নিতে পারি না, আশপাশের হাসপাতালে যেতে হয়। ওষুধ বলতে জ্বর, ঠান্ডা, কাশির কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে এত সব নির্মাণকাজ হচ্ছে কিন্তু মেডিক্যাল সেন্টার এখনো জরাজীর্ণ। কর্তৃপক্ষের কাছে মেডিক্যাল সেন্টারের মান বৃদ্ধির এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিযোগ বাক্স চালু করার দাবি জানাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. খন্দকার মো. শহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনেক কাজ হলেও মেডিক্যাল সেন্টারের উন্নতি নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নেই। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মেডিক্যাল সেন্টার বলতে যা বোঝায়, তার কিছুই এখানে নেই। কিছু ওষুধপত্র ও দুজন ডাক্তার দিয়ে কোনোভাবে চলছে। জনবল চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার চিঠি পাঠিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। ডাক্তারসংকট থাকায় সার্বক্ষণিক মেডিক্যাল সেন্টার খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা শিগিগরই জনবল নিয়োগ দিব। আগে ফার্মাসিস্ট পদ বিলুপ্ত হলেও নতুন অর্গানোগ্রামে সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে, প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মেডিক্যাল সেন্টারের বাজেট বাড়ানো এবং আধুনিকায়নের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। মেডিক্যাল সেন্টারটিকে নতুন কোনো ভবনে দুটি ইউনিট দেওয়া হবে। সেখানে সুযোগ-সুবিধা আরো বেশি থাকবে।’
অ্যাম্বুলেন্স মেডিক্যাল সেন্টারের আওতায় না থাকাকে সমস্যা মনে না করে উপাচার্য বলেন, ‘পরিবহন পুলে যে কোনো সময় ফোন দিলেই ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে।’
ইত্তেফাক/বিএএফ