জার্মানির নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ক্রিশ্চিয়ান ক্রোল। ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা সম্পন্ন করে সিদ্ধান্ত নিলেন বিশ্ব ভ্রমণ করবেন। একেক দেশের সংস্কৃতি, পরিবেশ, চিন্তাভাবনা একেক রকম। মহাবন অ্যামাজনের অনেকাংশ আছে ব্রাজিলে। স্হানীয় বাসিন্দারা অবাধে গাছ কাটছে। উজাড় হচ্ছে বন। লাতিন অঞ্চলে কয়েক মাস ক্রিশ্চিয়ান ক্রোল পর্যবেক্ষণ করেন এসব। কিছু একটা করার আগ্রহ জন্মে ক্রোলের। সিদ্ধান্ত নেন, পুনঃবনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। তবে ভিন্ন পম্হায়। ফিরে আসেন জার্মানিতে।
বন্ধু টিম শুম্যাখারকে সঙ্গে নিয়ে চালু করেন সার্চ ইঞ্জিন ‘ইকোশিয়া’। ২০০৯ সালের ৭ ডিসেম্বর কোপেনহেগেনে জলবায়ু সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় অ্যাপ্লিকেশনটির। বর্তমানে শূন্য দশমিক পঁচাত্তর সেকেন্ড, অর্থাৎ এক সেকেন্ডের চার ভাগের তিন ভাগ সময়ে পৃথিবীর এক প্রান্তে একটি গাছ লাগানো হয় ইকোশিয়ার মাধ্যমে। ইকোশিয়া নিজেদের প্রাপ্ত লভ্যাংশের আশি (৮০) শতাংশ ব্যয় করে বনায়নে! গুগলের মতোই একটি সার্চ ইঞ্জিন এটি। এর মূল শক্তি ব্যবহারকারীরা।
এক দশক আগে শুরু হওয়া ইকোশিয়ার ১ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর প্রতিনিয়ত ভিজিটে উঠে আসে আয়। প্রতি সার্চে ইকোশিয়ার আয় হয় ০.৫ সেন্ট (ইউরো হিসাবে)। একটি গাছ লাগাতে কর্তৃপক্ষের খরচ পড়ে ০.২২ সেন্ট। সেই হিসাবে একজন ইউজার ইকোশিয়ার সার্চবারে ৪৫ বার সার্চ করলে টাকাটা জমা হয়। সেই টাকায় লাগানো হয় গাছ।
এরপর প্রতি সার্চে সংখ্যা বাড়তে থাকে। যেসব অঞ্চলে বৃক্ষ নিধনের হার বেশি, ইকোশিয়া কর্তৃপক্ষ সেখানে নজর দেন বেশি। ব্রাজিলে এর তীব্রতা বেশী হওয়ায় ইকোশিয়ার শুরু হয় ব্রাজিল থেকেই। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৫টি দেশের ৯ হাজার ভিন্ন ভিন্ন স্হানে ২০টি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছে তারা। বুরকিনা ফাসো, পেরু, কলম্বিয়া, ঘানা, সেনেগাল, তানজানিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও মাদাগাস্কারে প্রায় ১০ কোটি গাছ লাগিয়েছে টিম ইকোশিয়া।
২০২০ সালের জুলাইয়ে ১ বিলিয়ন গাছ লাগানোর অসাধ্য সাধনের মাইলফলক স্পর্শ করা ইকোশিয়াকে নিজেদের প্রধান ব্রাউজারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে ৪৭টি দেশ। গুগলের নিজস্ব ব্রাউজার ক্রোম ও ফায়ারফক্সেও ব্রাউজ করা যাবে ইকোশিয়াকে। প্লে-স্টোর থেকেই ইকোশিয়া (Ecosia) ডাউনলোড করা যায়। ইকোশিয়া তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে বিজনেস কর্পোরেশন বা সংক্ষেপে বি-কর্পোরেশন সনদ লাভ করে।