বিভিন্ন অভিযোগে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) বিজয় দিবস হলের প্রভোস্ট মো. শফিকুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) এ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় দিবস হলের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হলের খাবার নিম্নমানের, যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা, একাধিক বাথরুমের দরজা ভাঙ্গা, হলের পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগীসহ পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে বাধ্য করার মত ঘটনার জন্ম দিয়েছে প্রভোস্ট।
তারা আরও বলেন, আগামী রবিবারের মধ্যে হল প্রভোস্ট মো. শফিকুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল প্রভোস্ট পদ থেকে তাকে অব্যাহতি না দিলে কঠোর আন্দোলনে যাবে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা বিজয় দিবস হলের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া প্রভোস্টের কক্ষ তালাবন্ধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, 'প্রভোস্ট সফিক স্যারের পদত্যাগ ব্যতীত এই রুমের দরজা খোলা নিষেধ।'
হলটির একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিজয় দিবস হলে বিরাজ করছে ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ আর হলের ছাদে জমে রয়েছে ময়লার স্তূপ। হলটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। গেস্ট রুমকে বানানো হয়েছে রিডিং রুম, যেখানে পড়াশুনা করতে পারেন মাত্র ৮-১০ জন শিক্ষার্থী। হলের যাবতীয় সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষকে অনেকবার অবগত করার পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসকল কারণেই আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। আগামী রবিবারের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে আমরা কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করব।
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব ইয়াসার বলেন, হলের খাবার খুবই নিম্নমানের। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের পেছনে আলাদা কোন বরাদ্দ নেই। ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৫৪ কোটি ২ লক্ষ টাকার বাজেট আসলেও অধিকাংশ খরচ হয় বেতন ও ভাতাদি বাবদ সহায়তা হিসেবে। ছেলেদের হল ক্যান্টিনগুলোর সবই ইজারা দেওয়া। খাবার পরিবেশনার জন্য ক্যান্টিন বয় ও রান্নার জন্য বাবুর্চির বেতন হল প্রশাসন থেকে দেওয়ার কথা থাকলেও হল প্রশাসন এই খরচগুলো না দেওয়ার কারণে ইজারাদাররা খাবারের দাম বাড়িয়ে ও মান কমিয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
এসকল বিষয়ে বিজয় দিবস হলের প্রভোস্ট মো. শফিকুল ইসলাম কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট কমিটি ও উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
বশেমুরবিপ্রবি হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি মো. রোকনুজ্জামানের বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে কিছুটা আলোচনা করেছি, আগামীকাল উপাচাযের্র সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান হবে।
এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য একিউএম মাহবুব বলেন, বিজয় দিবস হলের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আমরা এটা নিয়ে বসব, তারপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এসব নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখির দরকার নেই।