বালাসি-বাহাদুরাবাদ নৌরুট

সব নৌযান বিক্রি করে দিচ্ছে রেলওয়ের মেরিন বিভাগ 

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসি ঘাটের নৌযানসমূহ বিক্রি করে দিচ্ছে রেলওয়ের মেরিন বিভাগ| এসব বিক্রি করে বালাসি-বাহাদুরাবাদ নৌ-রুটে ৮৩ বছরের নৌযান চলাচল ইতিহাসের ইতি টানতে যাচ্ছে মেরিন বিভাগ| ইতিমধ্যে পাঁচটি নৌযান নিলামে বিক্রি করা হয়েছে| অবশিষ্ট নৌযান বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে| দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে| এদিকে এই রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য উভয় পাশে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনাল নির্মিত হয়েছে|

এখন ঐ সব নৌযান না থাকলে টার্মিনাল দুটি কোনো কাজেই আসবে না| অন্যদিকে বালাসি-বাহাদুরাবাদ নৌ-রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর দাবিতে এলাকায় আন্দোলন চলমান রয়েছে|

বাংলাদেশ রেলওয়ের গাইবান্ধা মেরিন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গাইবান্ধা শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে বালাসি ঘাট| ফুলছড়ি উপজেলার অন্তর্গত বালাসি ঘাটে বর্তমানে প্রায় ১১টি নৌযান রয়েছে| এগুলো হচ্ছে তিতুমীর মালবাহী টাগ একটি, বাহাদুর শাহ টাগ একটি, বার্জ-১৬ একটি, বার্জ-১০ একটি, স্টোর পন্টুন একটি, পন্টুন দুটি, ঝালাই বোর্ড একটি এবং শো-গার্ডার তিনটি| এর মধ্যে তিতুমীর ও বাহাদুর শাহ ৩৯টি করে ট্রেনের বগি টেনে নিয়ে যেতে পারত| রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব নৌযানের বেশ কিছু অকেজো হয়ে পড়েছে|

সূত্রটি আরো জানায়, এসব নৌযানের মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাসে জিওয়ান নামের একটি নৌযান নিলামে বিক্রি করা হয়| জিওয়ানের ওজন আনুমানিক ৫০০ টন| ঢাকার মিরপুরের পূর্ব আহম্মদনগর এলাকার মের্সাস জেআর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে নৌযানটি বিক্রি করা হয়েছে| নৌযানটি মাত্র ৭৬ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে| সূত্রটি জানায়, জিওয়ান ছাড়াও বালাসি ঘাটে রাখা আরো চারটি নৌযান সম্প্রতি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে| এগুলো ক্রেতাদের এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি| অবশিষ্ট ছয়টি নৌযান বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করার প্রক্রিয়া চলছে| এলাকাবাসী জানায়, এসব নৌযানের মধ্যে বাহাদুর শাহ ও তিতুমীর নামের দুটি জাহাজ সচল রয়েছে| এ দুটিকে অচল দেখিয়ে নিলামে বিক্রির প্রস্ত্ততি চলছে| পাঁচটি নৌযান বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা মেরিন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মেরিন সুপার এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট অঞ্চলের বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী (লোকো) রাসেল আলম| তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, অবশিষ্টগুলো বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে| হয়তো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে| বিক্রির আদেশ হয়নি| এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি| তিনি বলেন, এসব বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে দরপত্র আহ্বান এবং বিক্রি করা হচ্ছে| সেখানকার কর্তৃপক্ষ সবকিছু জানে| একই বিষয়ে জানতে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রাশেদুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়| তিনি বলেন, ফোনে তথ্য দেওয়া যাবে না| লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ মোবাইল ফোনে বলেন, এসব নৌযান রেলওয়ের প্রয়োজন নেই| এগুলো রেলের কোনো কাজে লাগছে না, চলাচলেরও উপযোগী নয়| নৌযানগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে| নৌ-রুটও চালু নেই| তাই এসব নৌযান বিক্রি করা হচ্ছে| এদিকে বালাসি-বাহাদুরাবাদ নৌ-রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলন চলছে| আন্দোলনকারীদের একজন গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফেরি চালুর জন্য আন্দোলন চালানো হচ্ছে| রুটটি চালু হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরের আট জেলার দূরত্ব দুই-তিন ঘণ্টা কমে যাবে| ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক ও যমুনা সেতুর ওপর চাপ কমবে| তাই স্হানীয় জনগণের দাবির মুখে উভয় পাশে টার্মিনাল হয়েছে| এখন রুটটি চালুর অপেক্ষায়| এই মুহূর্তে কী উদ্দেশ্যে নৌযান বিক্রি করা হচ্ছে, তা বোধগম্য হচ্ছে না| এসব বিক্রি করে মেরিন বিভাগ ৮৩ বছরের নৌযান চলাচলের ইতিহাসের ইতি টানতে যাচ্ছে| তিনি বলেন, নৌযানগুলো সংস্কার করে কাজে লাগানো যায়| 

টার্মিনাল প্রসঙ্গে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার বলেন, উভয় পাশে বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনাল নির্মাণ করেছে| বিষয়টি তারা দেখবে| গাইবান্ধা রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৮ সালে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ নৌ-রুট চালু করে| এপারে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাট, ওপারে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট|