চতুর্থ ধাপে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের চারজন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল লতিফ সরকার, রাখালবুরুজ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছা: নুরজাহান বেগম, নাকাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোকছেদুল আমিন ও সাপমারা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সামীম রেজা। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মোত্তালিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রত্যেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে জমা থাকে। মোট কাস্ট ভোটের এক অষ্টমাংশের নিচে কম ভোট পেলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেওয়া ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের আবদুল লতিফ সরকার জামানত হারিয়েছেন। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৫৪০ ভোট। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ৩ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
আবদুল লতিফ সরকার বলেন, তিনি দলীয় প্রার্থী। দলের নেতাকর্মীরা তাকে সহযোগিতা করবেন, তার পক্ষে কাজ করবেন, এটাই হবার কথা। কিন্তু কোনো নেতাকর্মী তার পক্ষে কাজ করেননি। ফলে এই ফলাফল হয়েছে।
রাখালবুরুজ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছা. নুরজাহান বেগম জামানত হারিয়েছেন। তিনি পান মাত্র ১ হাজার ৪১ ভোট। এই ইউনিয়নে ৭ হাজার ৩৮৯ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানুর রহমান ডিউক।
আওয়ামী লীগের মোছা. নুরজাহান বেগম বলেন, দলের নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে তার পরাজয় ঘটেছে।
নাকাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আটজন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মোকছেদুল আমিন জামানত হারিয়েছেন। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৫৯৬ ভোট পান। নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজু খন্দকার। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ২৮২ ভোট।
মোকছেদুল আমিন বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মীই তাঁকে সহায়তা করেনি। এ ছাড়া এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। ফলে নৌকার বিপর্যয় ঘটেছে।
সাপমারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে জামানত হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের মো. সামীম রেজা। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৫৩২ ভোট। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাকিল আলম ৪ হাজার ৬৬৫ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মো. শামীম রেজা ফোন ধরেননি। তবে সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল গ্রামের আওয়ামী লীগের কর্মী আজিবর মিয়া বলেন, এখানে প্রার্থী মনোনয়ন ভালো হয়নি। ফলে দলীয় প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
এসব বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রধান আতাউর রহমান বলেন, স্থানীয় নির্বাচন সাধারণত আঞ্চলিকতা বেশি কাজ করে। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে উপজেলায় দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের তৃনমুল কমিটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা জনপ্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রে তালিকা পাঠায়। এ ছাড়া অধিকাংশ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। এসব কারণে উপজেলায় দলীয় প্রার্থীর পরাজয় ঘটেছে।
প্রসঙ্গত. গত রোববার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৫টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪টি আওয়ামী লীগ, ৪টি আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, ৪টি বিএনপি’র স্বতন্ত্র, ২টি স্বতন্ত্র ও ১টি জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছেন।