দিনাজপুরে ঘন কুয়াশা-শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিন মজুরসহ শ্রমজীবী মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে ছোটবড় যানবাহন।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) ভোর থেকেই তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার সাথে সাথে শৈত্য প্রবাহের কারণে পৌর শহর ছিল প্রায় জনশূন্য। হাটবাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। কাজের সন্ধানে শ্রমজীবীরা শহরের নিমতলা মোড়ে সকাল থেকে অবস্থান নিলেও কাজ না পেয়ে বেলা ১১টার পর থেকে নিরাশ হয়ে বাড়ী ফিরতে বাধ্য হন অনেকে। 

দিনাজপুরে ঘন কুয়াশা-শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত। ছবি-ইত্তেফাক

এদিকে সকাল সোয়া ১১ টা পর্যন্ত অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকলেও সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি ছিল কম। 

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামের ক্ষেতমজুর উর্মি মুর্মু ও তিলাইপাড়া গ্রামের সাবিনা বাস্কে বলেন, তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহের কারণে ক্ষেতে অবস্থান করতে পারছেন না বলে কাজও করতে পারছেন না। এ কারণে গত দুইদিন থেকে বেকার অবস্থায় বাড়ীতে বসে আছেন। 

পৌর শহরের রিকশা চালক আব্দুর রশিদ ও মোন্নাফ হোসেন বলেন, বর্তমান অবস্থায় শহর জনশূন্য হয়ে পড়ায় তারা যাত্রী পাচ্ছে না। ফলে সকাল ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থানীয় ননীগোপাল মোড়ে অবস্থান করেও একজন যাত্রীও পাননি। দুপুর ১টা পর্যন্ত থেকে বাড়ি ফিরে যাবেন। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিউল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলায় শীতবস্ত্র হিসেবে প্রথম দফায় ৩ হাজার ৪৪০ টি কম্বল এবং দ্বিতীয় দফায় নগদ ৬ লাখ ৫৪ হাজার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দ্রুত কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোমবার দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বাতাসের গতিবেগ ৮/১০ কিমি প্রতিঘণ্টায়। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে নওগাঁর বদলগাছিতে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শীতের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তেমন গুরুতর হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।