স্বপ্ন দেখাচ্ছে রোবট অলিম্পিয়াড বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ

ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড। রোবট নিয়ে স্বপ্ন দেখা তরুণ স্বপ্নবাজদের কাঙ্ক্ষিত বৈশ্বিক আসর। ২০১৮ সালে বৈশ্বিক এই আয়োজনের ১৯তম আসরে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ। বিশ্বের ৬৫টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ছিনিয়ে আনে স্বর্ণপদক। তারপর একে একে আরো তিন বছর। সর্বশেষ ২০২১ সালে ২৩তম ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে চারটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য, পাঁচটি ব্রোঞ্জ ও চারটি টেকনিক্যাল পদক জিতেছে ১৬ সদস্যের বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াড দল।

সুখবর শুধু এতটুকুতেই নয়, চার বছরে যেমন বেড়েছে প্রতিযোগীর সংখ্যা, একই সঙ্গে বেড়েছে নারী প্রতিযোগীর সংখ্যাও। ২০১৮ সালে ৮ সদস্যের টিমে মাত্র দুজন নারী থাকলেও ২০২১ সালে ১৬ সদস্যের টিমে সেটি এসে দাঁড়ায় ৮ জনে। অর্থাৎ, অর্ধেক নারী-পুরুষ সমান হয়ে যায়। বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াড কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে আটজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে মাত্র দুজন ছিল নারী শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ২৫ শতাংশ। ২০১৯ সালে ১৫ জনের ৫ জন, ২০২০ সালে ১৯ জনের ৬ জন, সর্বশেষ ২০২১ সালে ১৬ জনের মধ্যে ৮ জন নারী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এক বছরের ব্যবধানে জাতীয় পর্যায়েও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল দ্বিগুণ। ২০২০ সালে ৭৩১ জন অংশগ্রহণ করে। ২০২১ সালে তা ১ হাজার ১২৪ জনে উন্নীত হয়। ২০২০ সালে নারী অংশগ্রহণকারী ছিলেন ১৩৮ জন, পরের বছর যা ২৭৪ জনে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্রমান্বয়ে ভালো করছে। আশা করছি আগামী দিনে আমরা রোবট অলিম্পিয়াডে নেতৃত্ব দিতে পারব। আমরা আরো চেষ্টা করছি কীভাবে আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে পারি। তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীরা যারা ছোট, তাদের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণত আমাদের সমাজে ধরা হয় যে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন তথা বিজ্ঞানের বিষয়গুলো অনেকটা কঠিন। আর কঠিন বিষয়গুলো পুরুষদের জন্য। সেজন্য মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিকে নারী শিক্ষার্থীদের হার কমে যায়। সেখানে পরিবার ও সমাজের একটা ভূমিকা রয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগ্গির এই পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হবে।